বাংলাদেশ ইস্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কে আইসিসি
বাংলাদেশ সংক্রান্ত নানা ইস্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে জটিলতায় পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহারের (নেম, ইমেজ অ্যান্ড লাইকলিনেস—এনআইএল) শর্ত নিয়ে আইসিসির মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি খেলোয়াড়দের যে ‘স্কোয়াড পার্টিসিপেশন টার্মস’ পাঠিয়েছে, তা ২০২৪ সালে আইসিসি ও ডব্লিউসিএর মধ্যে স্বাক্ষরিত ও সম্মত চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং নতুন শর্তাবলিকে খেলোয়াড়দের জন্য আরও ‘শোষণমূলক’ বলে উল্লেখ করেছে ডব্লিউসিএ।
খেলোয়াড়দের সংগঠনটি ইতোমধ্যে লিখিতভাবে তাদের উদ্বেগের কথা আইসিসিকে জানিয়েছে। তবে অভিযোগটি নাকচ করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৪ সালের চুক্তিটি কেবল আটটি সদস্য বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল এবং আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্যান্য দলের জন্য তা কার্যকর নয়।
আইসিসির এই অবস্থানের পাল্টা যুক্তিতে ডব্লিউসিএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—খেলোয়াড় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সব ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই এই চুক্তি প্রযোজ্য হবে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিক বা না নিক। সে কারণেই সব খেলোয়াড়েরই ওই চুক্তির সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে মনে করে সংগঠনটি।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টম মফাট বলেন, চুক্তির দুটি সংস্করণের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে কনটেন্ট ও মিডিয়া উপস্থিতি, পর্দার পেছনের ভিডিও ধারণ, ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকার, খেলোয়াড়দের জৈবিক তথ্য, লাইসেন্সিং, নাম–ছবি–পরিচিতির ব্যবহার (এনআইএল), চুক্তির শর্ত এবং বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মফাটের ভাষায়, “আইসিসির নতুন শর্তাবলি পূর্বে সম্মত চুক্তির তুলনায় খেলোয়াড়দের ছবি ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের অধিকারসহ নানা সুরক্ষা মারাত্মকভাবে সীমিত করে ফেলছে।”
তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বল্প আয়ের খেলোয়াড়দের ভিন্ন ও কঠোর শর্তে খেলতে বাধ্য করা হচ্ছে, যেখানে একই পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো শর্ত পাচ্ছে। অনেক খেলোয়াড়ের জন্য আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণই আয়ের প্রধান উৎস এবং ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ।”
ডব্লিউসিএ জানিয়েছে, তারা ক্রিকেটের উন্নয়ন ও আইসিসি ইভেন্টের সম্প্রসারণের বিরোধী নয়। তবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই সেই লক্ষ্য অর্জন করা উচিত। সংগঠনটির দাবি, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যে যে স্কোয়াড শর্তে সম্মতি দিয়েছেন, বিশ্বকাপে আইসিসির উচিত সেটিই কার্যকর করা।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: