অটোরিকশা চালক থেকে ফুটবল জয়ের স্বপ্ন! সালমানের অদম্য লড়াইয়ের গল্প
পায়ে ছেঁড়া বুটজোড়া, আর চোখে বিশ্বজয়ের অদম্য তৃষ্ণা- বলছি অটোরিকশা চালক দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোর সালমানের অদ্যম লড়াইয়ের কথা। এই কিশোরের সকালটা শুরু হয় ক্লাসের বই হাতে কিংবা পায়ে ফুটবল দিয়ে নয়। জীবিকার নির্মম টানে প্রতিদিন ভোরেই তাকে নামতে হয় বেঁচে থাকার লড়াইয়ে।
বাবার সাথে অটোরিকশা চালকের আসনে বসে, অভাবের সংসারে একটু সুখের আলো আনতে যে ছেলেটির দিন কাটে রাজপথে - সেই ছেলেই নাকি বুকে পুষে রেখেছে টাইগার, ফুটবলে জায়গা করে নেওয়ার অদম্য স্বপ্ন!
ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপে খেলা ক্রিকেট যখন গোট দেশকে এক অনন্য সোনালী সময়ে ভাসিয়ে নিচ্ছে, চারপাশের সবাই যখন ব্যাট-বলের প্রেমে মশগুল, তখন এই সাহসী যোদ্ধার চোখে শুধুই দেশের ফুটবল! সব জোয়ারের বিপরীতে হেঁটে তার বুকে কেবল ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা।
লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামার স্বপ্নটাই যেন তার সমস্ত ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। হামজা- জামালদের দেখানো পথ ধরে, অবহেলিত এ দেশের ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ চূড়ায় নিতে চান অভাবের কাছে হার না মানা এই কিশোর ফুটবলার।
এদিকে বিগত ৫ বছর ধরে যাকে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মাঠে ঘাম ঝড়াতে দেখেছেন গোল্ডেন ফিউচার ফুটবল একাডেমির কোচ এসকে বেলাল আহমেদ স্পষ্টই বলেছেন-বিলাসিতায় বেড়ে ওঠা হাজারো তরুণের চেয়ে জীবনের সাথে লড়াই করা এই সুবিধাবঞ্চিত ছেলেগুলোর প্রতিভা অনেক গুণ বেশি!
তবে কেবল প্রতিভাই কি যথেষ্ট? মাঠের এই গল্পগুলোকে বাস্তব করতে হলে প্রয়োজন দেশের ফুটবল কাঠামোর আধুনিকায়ন আর একাডেমিগুলোতে বাফুফের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা।
এসব প্রতিভাবান তরুনদের মাঝে ফুটবলের স্বপ্নটাকে আরো জাগ্রত রাখতে পর্যাপ্ত ফুটবল সরঞ্জাম, ভালো বুটজোড়া সহ জার্সির সংস্থান যদি করা যায়, তবে তৃণমূলের এই না-বলা গল্পগুলোই হয়তো একদিন রূপ নেবে এ দেশের ফুটবলের ইতিহাস গড়ার আসল শক্তিতে!
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: