বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত দু‘দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসবের আজ (শনিবার) শেষ দিন ছিল। রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরীর ৩৬টি স্কুলের ২ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ অনুষ্ঠানের সমাপনী আয়োজন ছিল।
দু’দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণ উৎসবে আজ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় লেখক ও অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ; দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মাহফুজ আনাম; জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক ও অনুবাদক আফসানা বেগম; বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও প্যারাগন গ্রুপের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান; বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও প্রাক্তন সচিব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে দু‘দিনব্যাপী এই পুরস্কার বিতরণ উৎসবের দ্বিতীয় দিনের ৫ম পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানীত অতিথিগণ বিজয়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।
পুরস্কার বিতরণ উৎসবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথপ্রদর্শক হিসেবে চিহ্নিত করে খায়রুল আলম সবুজ বলেন তোমাদের এই সময়টা হলো প্রস্তুত হওয়ার, সামনে তোমাদের অনেক সমস্যা আসবে, সেগুলো বই পড়ার অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সঠিক পথে যেতে পারবে বলে তিনি জানান।
অতিথির শুভেচ্ছা বক্তব্যে দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মাহফুজ আনাম পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বলেন, তোমরা বইয়ের মাধ্যমে ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করবে, যা তোমাকে এবং সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বক্তব্যের শুরুতেই পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং বলেন, “এখন তোমাদের পড়াশোনার সময়। এই সময়ে তোমাদের বেশি বেশি বই পড়তে হবে। বই থেকে অর্জিত জ্ঞান শুধু পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশের পাশাপাশি সেই জ্ঞানকে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন।
গ্রামীণফোন লিমিটেডের স্ট্র্যাটেজিক প্রোগ্রাম লিড মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, বইপড়া কর্মসূচির মাধ্যমে তোমরা যে বইগুলো পড়তে পারছো, সেগুলোর মাধ্যমে তোমরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন বই সম্পর্কে জানতে পারছো, জানার পরিধি বিস্তৃত করছে, এটি একটি অনন্য উদ্যোগ।” আর গ্রামীণফোন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে গর্বিত বোধ করে বলে তিনি জানান।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও প্রাক্তন সচিব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান স্বাগত বক্তব্যে বছরজুড়ে বইপড়া কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান।
দু'দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার জন্য গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। আগামী বছরগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের একর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
গতকাল পুরস্কার বিতরণী উৎসবের প্রথমদিনে ঢাকা মহানগরীর ৩৬টি স্কুলের ৩ হাজার ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। আজ ও গতকাল দু‘দিনে ঢাকা মহানগরীর মোট ৭১টি স্কুলের ৫ হাজার ৮২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শুভেচ্ছা ৪২৮৮ জন, অভিনন্দন ১৩৬৭ জন ও সেরা পাঠক ১৬৮ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৮০৫ জন শিক্ষার্থী মেয়ে এবং ১০১৮ জন শিক্ষার্থী ছেলে।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়।
দিনব্যাপী উৎসবের বিশাল আয়োজন ও পুরস্কারের বই স্পন্সর করছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: