আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস আজ
ছবি: উইকিপিডিয়া
আজ ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। কন্যাশিশুদের সম্ভাবনা বিকাশের পাশাপাশি তাদের সামনে থাকা বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতা দূর করাও এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ অ্যান্ড ইনভেস্ট ইন গার্লস রাইটস’। অর্থাৎ, ‘বাল্যবিয়ে বন্ধ করুন এবং মেয়েদের অধিকার সুরক্ষায় বিনিয়োগ করুন’।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো অসংখ্য কন্যাশিশু বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, অপুষ্টি, নির্যাতন ও শিক্ষাবঞ্চনার শিকার হচ্ছে। সামাজিক কুসংস্কার, দারিদ্র্য এবং লিঙ্গবৈষম্যের কারণে অনেক মেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ উপযুক্ত পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে কন্যাশিশুরাও পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশেও কন্যাশিশুদের অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের অংশগ্রহণ বেড়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছে। তবে বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি, অনলাইন নিপীড়ন, পুষ্টির ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার মতো চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিকর খাবার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবারে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বৈষম্য দূর করে মেয়েদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস শুধু উদ্যাপনের দিন নয়; এটি কন্যাশিশুদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নতুন করে স্মরণ করার দিন। প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন দেখার, শিক্ষা গ্রহণের এবং নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করা গেলে গড়ে উঠবে আরও সমতাভিত্তিক, নিরাপদ ও উন্নত ভবিষ্যৎ।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: