উন্নয়ন প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা বললেন অর্থমন্ত্রী
ফাইল ছবি
সরকারি প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি এনজিওগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যে প্রতিষ্ঠান যে কাজ সবচেয়ে ভালোভাবে এবং কম খরচে করতে পারবে, সেই কাজের দায়িত্ব তাদের দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থের যথাযথ ব্যবহার, টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বা নতুন উদ্যোগ সৃষ্টির সুযোগ এবং পরিবেশগত বিষয়। প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সময় এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু অর্থ ব্যয় করা নয়; বরং এর মাধ্যমে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা, ব্যয় এবং কার্যকারিতা বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব বণ্টন করা প্রয়োজন।
এদিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশে উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরে দেশে উন্নয়ন সহায়তা ২৩ শতাংশ কমেছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে ছোট ও মাঝারি আকারের এনজিওগুলো।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও ফলপ্রসূ হতে পারে। যে প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট কাজটি দক্ষতার সঙ্গে ও কম খরচে করতে সক্ষম, তাদের সেই দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্পগুলোকে টেকসই করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি এবং পরিবেশের ওপর প্রকল্পের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার সময়ে ছোট ও মাঝারি এনজিওগুলোর সক্ষমতা ধরে রাখা এবং সরকারি প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকর করতে পারে।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: