• NEWS PORTAL

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাদামী পৃষ্ঠতলে অভিব্যক্তির বয়ান

রেজাউর রহমান 

প্রকাশিত: ২২:৫১, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

ফন্ট সাইজ
বাদামী পৃষ্ঠতলে অভিব্যক্তির বয়ান

রেজাউর রহমান 

"স্বাভাবিকতা একটা ইতোমধ্যে তৈরি হওয়া রাস্তা, যে রাস্তায় হাঁটা সহজ ও স্বস্তিদায়ক কিন্তু কোন ফুল সেখানে ফোটে না।" - ভিনসেন্ট ভ্যানগগ 

ফলত: যে কোন কিছুর স্বাভাবিকতা সহজ ও সহজাত। আদ্যশক্তির যা কিছু স্বাভাবিক, তার অস্তিত্ব উপলব্ধিগত প্রাণীকূলের কাছে। কিন্তু বর্ণনা শুধুই নৃ-কূলের নানা বহিঃপ্রকাশ থেকে পাওয়া যায়, যেমন শব্দকে নানাভাবে ব্যবহার করে প্রকাশ করেছে। শব্দ রূপান্তরিত হয়ে সুরের কিংবা রেখার ভিন্ন ধরনের প্রকাশ করেছে, যা শুধুই মানব সম্প্রদায়ের মধ্যে ধরা দিয়েছে। 

মানব সভ্যতার ইতিহাসে যা পাওয়া যায় তা শব্দ নয়, রেখাকে উপজীব্য করে এগিয়ে চলছে ভাবগত, আধ্যাত্মিক কিংবা বিশ্বাসগত আদান-প্রদান। কিন্তু এই বিনিময় কি খুব সুখকর ছিল! তা মনে হয় না। প্রয়োজন মানবকূলকে স্বাভাবিকতার প্রয়োগের দিকে ঠেলে দিয়েছে, শিখিয়েছে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পথ, শুরু হয় শিল্পের। 

" ঠিক মতন বাঁচতে পারাটা একটা আর্ট। "

তাহলে অস্তিত্বের প্রয়োজনই নৃ-কূলকে শিল্পের সাথে সহাবস্থানের অবস্থান করায়। শিল্প কী শুধুই শখের বস্তু? তা মনে হয় না। কেবল চিত্ত উন্মুক্ত থাকলেই তা বোধগম্য। 

জীবন ও তার পারিপার্শ্বিকতা শিল্পকে সমভাবে অবস্থান করতে সাহায্য করে। মানুষ নিজেকে মেলে ধরে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে কিন্তু সব উপায়ের মধ্যে শিল্প থাকে। এটা প্রমাণিত যে মানবসত্তা আর শিল্প সহাবস্থানে স্থিত। 

এখন দেখবার বিষয় প্রকাশ ভঙ্গির পথ কোনটি। সেই পথ কি আরামদায়ক?  তা হলে তো বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেণ্ট ভ্যানগগের কথায় সেই পথে ফুল ফুটবে না, কিন্তু "স্টুডিও ৬/৬"-এর একদল চিত্রশিল্পী সেই পথ পরিহারে রত। বাদামী কাগজের উপর নানা ফর্মে, বর্ণে প্রকাশ করছে একটা প্রদর্শনীর ভেতর দিয়ে। এই শিল্পীদের প্রকাশভঙ্গী বর্ণে না হলেও আধুনিক চিত্র আন্দোলনের শক্তিশালী ফব ইজমের কথা মনে করিয়ে দেয়। লাল গালিচায় মোড়ানো পানশালায় দাঁড়িয়ে যেন কয়লা শ্রমিকের চুরুটের গন্ধ পাওয়া যায় এই চিত্রকর্মের মধ্যে। 

ভকস্- এল সম্ভবত প্রথম একগুচ্ছ চিত্র কর্ম দেখে একটি শব্দ ব্যবহার করেছিলেন তা হলো অভিব্যক্তিবাদ( Expressionism), যা দৃশ্যশিল্পে বাস্তববাদের চরম বিরোধী এক প্রকাশভঙ্গী। "Brown Paper " শীর্ষক প্রদর্শনীতে শিল্পীরা নিজেদের অভিব্যক্তিকে সহজ-সরল অথচ বার্তাবাহী করে তুলেছেন।

"সরলতা প্রকৃতির প্রথম ধাপ এবং শিল্পের শেষ "

এই শিল্পকর্মীরা তাদের শিল্পসৃষ্টিতে শিক্ষাকেন্দ্রের নিয়ম-নীতিকে উপজীব্য না করে নিজস্ব অভিব্যক্তির মাধ্যমে কখনো কিউবিক কখনো বিশ্বায়নের প্রতীকী ইমোজিকে, কখনো মানব ক্রোমোজমকে সামনে এনেছেন। আত্নোপলব্ধির বহিঃপ্রকাশের আতুরাশ্রম এই বাদামী পৃষ্ঠতল। একটি তর্ক জিইয়ে রেখে চলছে এই প্রদর্শনী। শিল্প-শিক্ষাঙ্গনের অনুশাসন না আত্মচিত্তবোধ কোনটি অভিব্যক্তির প্রকাশকে স্বতঃস্ফুর্ত করে, তার জবাব মনে হয় এই প্রদর্শনী হতে পারে। গ্যালারির উপস্থাপনেও এক অনাড়ম্বরতা, বোধ করি বাহুল্যের কোন প্রয়োজনও এখানে নেই। উপস্থাপিত হয়েছে কেবল নিজেকে মেলে ধরবার। বোধের জাগরণ ফর্মে ও রেখায়। বাস্তববাদী শিল্পচর্চার শিল্পের সাথে পার্থক্য হলো সত্তা গত। 

শুধু বাদামী নয়, নানা বর্ণের পৃষ্ঠতলে কিংবা পটে অভিব্যক্তির গল্পের অপেক্ষায় "স্টুডিও ৬/৬"-এর দেয়াল, যেখানে আরও নতুন অপ্রকাশিত রেখা রচিত হবে; আর তার অপেক্ষায় শিল্প রসিক।

লেখক: ফ্রিল্যান্সিং চিত্রশিল্পী

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: