• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একদিকে বিয়ে বাড়ির আনন্দ, অন্যদিকে পুকুরে মিললো দুই শিশুর মরদেহ 

রংপুর ব্যুরো

প্রকাশিত: ২১:৫২, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
একদিকে বিয়ে বাড়ির আনন্দ, অন্যদিকে পুকুরে মিললো দুই শিশুর মরদেহ 

বাড়িতে বিয়ের উৎসব, উঠানে স্বজনদের ভীড়। নতুন বউকে ঘিরে হাসি-গল্প আর অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততা। এরই মাঝে পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে। মূহুর্তেই যেন বিয়ে বাড়ির আনন্দ রূপ নেয় বিষাদের ছায়ায়। বিয়ে বাড়ির সেই উঠানে এনে রাখা হয় দুই শিশুর নিথর মরদেহ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের আরাজি গ্রামের একটি পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত দুই শিশু হলো-বদরগঞ্জ উপজেলার চম্পাতলী মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের রুপা রানী (১০) ও তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের কাচনা গ্রামের পঞ্চমী রানী রায় (৮)। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো বোন।

পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার রাতে (২৮ সেপ্টেম্বর) আরাজি গ্রামের রতন চন্দ্র রায়ের বিয়ে হয় তারাগঞ্জের কাংলাচড়া গ্রামে। বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন সেখানে জড়ো হন। রতনের বোন ওমালা রানী তার মেয়ে রুপাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আসেন। একইভাবে রতনের বড় ভাই অজয়ের শ্যালিকা মিনতি রানী রায় তার মেয়ে পঞ্চমীকে নিয়ে বিয়ে বাড়িতে আসেন।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবারও বাড়িতে ছিলো উৎসবের আবহ। দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে রুপা ও পঞ্চমী বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা ফিরে না আসায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে আরাজি গ্রামের সুধীর রায়ের পুকুরে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে তল্লাশি শুরু হয়। বিকেল তিনটার দিকে পানির নিচ থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবর ছড়িয়ে পড়লে পুকুরপাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে মরদেহ দুটি বাড়ির উঠানে পাশাপাশি রাখা হয়। মেয়ের নিথর মুখ দেখে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন দুই মা।

রুপার মা ওমালা রানী বলেন, মামার বিয়েতে আনন্দ করবে বলে মেয়েকে সঙ্গে করে এনেছিলাম। কত খুশি ছিল সে। এখন মেয়েটা সামনে পড়ে আছে, কিন্তু মা বলে ডাকছে না। বিয়ের আনন্দ দেখাতে এনে এখন মেয়ের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে-এ কষ্ট কীভাবে সহ্য করি?

পঞ্চমীর মা মিনতি রানীও বারবার মেয়ের কাছে ছুটে যাচ্ছিলেন। স্বজনেরা তাকে সামলে রাখছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন,  বিয়ের খুশি আমার কপালে এমন দুঃখ আনলো। আমার মাও (মেয়ে) কথা কওছে না। আমি ওর বাপকে কী জবাব দিম? তোরা আমার মাওক (মেয়েকে) ফিরিয়ে দে।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক চন্দ্র বলেন, কিছুক্ষণ আগেও বাড়িটিতে হাসি-আনন্দ ছিলো। দুই শিশুর মরদেহ পাশাপাশি পড়ে থাকতে দেখে এলাকার কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। মমিনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দুলাল হোসেন বলেন, দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। বিয়ের বাড়ির উঠানেই এখন স্বজনদের কান্না। স্থানীয় লোকজন পুকুর থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসেছে।

রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন,  বিয়ে বাড়িতে এসে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুব দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত