সাজেকে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের অবরোধ: হুমকিতে পর্যটন খাত-পাহাড়ের অর্থনীতি
খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের আওতাধীন সাজেকে ইউপিডিএফ প্রসীত সমর্থিত কথিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও হেডম্যান-কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধে পর্যটন শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে সারাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার পর্যটকের হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং বাতিলের কারণে এখন পুরো সাজেক এলাকা এক চরম শূন্যতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
ইউপিডিএফের এই ধ্বংসাত্মক ও হিংসাত্মক রাজনীতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পরিবহন সেক্টরে। পর্যটকশূন্য সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পরিবহন মালিক ও চালকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। সেই সাথে সাজেকের পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবিকানির্বাহ করা হাজার হাজার স্থানীয় কর্মমুখী মানুষ কাজ হারিয়ে এক রাতের ব্যবধানে পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েছেন।
এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন বন্ধ ঘোষণা ও ১৩ অক্টোবরের মধ্যে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না শর্তে সাজেকের জনৈক রির্সোট মালিক জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সাজেকে শতাধিক আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং আসে। পর্যটকের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। যদি পর্যটকরা আসতে না পারে, ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
নাম প্রকাশ না শর্তে সাজেকের একাধিক সুবিধাভোগির অভিযোগ, আঞ্চলিক সশস্ত্র আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই ইউপিডিএফ (প্রসীত) এই সড়ক অবরোধ ডেকেছে। পাহাড়ের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি সাজেক পর্যটন শিল্পকে এভাবে জিম্মি করায় ধ্বংসের মুখে পড়ছে পুরো অঞ্চলের দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। এই অচলবস্থার কারণে সাজেকের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খাঁন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সাজেক যাবে। আমরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তাদের নিরাপত্তা দেবো।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, প্রতি বছর অক্টোবর থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে পর্যটকরা সাজেক যান। পর্যটকরা খাগড়াছড়ির অর্থনীতির চালিকা শক্তি। তাদের নিরাপত্তা দেওয়া সকলের দায়িত্ব।
ইউপিডিএফের (প্রসীত) স্বার্থকেন্দ্রিক ও সহিংস রাজনীতির খেসারত দিয়ে আজ বলির পাঁঠা হচ্ছে পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল সাধারণ মানুষ। একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অঞ্চলটিকে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দেওয়ার এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। পাহাড়ের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সাজেকের পর্যটন খাত রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: