• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কানাডায় পাঠানোর প্রলোভনে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সিআইডির জালে চক্রের নারী সদস্য

প্রকাশিত: ১৬:৩১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৬:৩২, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কানাডায় পাঠানোর প্রলোভনে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সিআইডির জালে চক্রের নারী সদস্য

কানাডার একটি কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে ২০ লাখ ১০ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চক্রের এক নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের প্রকৃত পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করে সিআইডির একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত নারীর নাম নার্গিস বেওয়া ওরফে সালমা আক্তার (২৬)। তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার নয়ানখাল উত্তরপাড়া এলাকার মৃত ছকমল হোসেনের মেয়ে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে (২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত) রাত ২টা ১৫ মিনিটে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানাধীন নয়ানখাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীকে কানাডার একটি কোম্পানিতে চাকরির জন্য পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত নারী মোট ৩০ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি করেন। পরে ২৮ মে ২০২৫ থেকে ২৪ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৮৯০ টাকা এবং নগদ ও রকেটের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ২৮ হাজার ৮১০ টাকা গ্রহণ করেন তিনি। সব মিলিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২০ লাখ ১০ হাজার ৭০০ টাকা নেওয়া হয়।

টাকা গ্রহণের পর অভিযুক্তরা কানাডায় যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে ভুক্তভোগীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ওই কাগজপত্র নিয়ে কানাডা অ্যাম্বাসিতে যোগাযোগ করা হলে যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো ভুয়া বলে জানানো হয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী কাফরুল থানায় মামলা করেন। 

তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত নারীসহ চক্রের অন্যান্য সদস্য পরস্পর যোগসাজশে বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে সেগুলো আসল হিসেবে ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন। গ্রেফতারকৃত আসামি তার প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। মামলার তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নারী অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মামলার সঙ্গে এজাহারনামীয়দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির ভূমিকা, আত্মসাৎ করা অর্থের সম্পূর্ণ পরিমাণ, অর্থের গতিপথ এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত