শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মোংলা বন্দরের কর্মচারী বরখাস্ত
পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় মোংলা থানায় মামলা দায়ের করেছে শিশুটির পরিবার। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার অনুকুলে বরাদ্দকৃত আবাসিক ফ্ল্যাটটির বরাদ্দ বাতিল করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম ইয়ার মোঃ সুমির। তার আইসি নং-২৯৮৭। তিনি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল অ্যান্ড হাইড্রোলিক্স বিভাগের সিনিয়র আউটডোর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শিশুটির পরিবার ও মোংলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলা সুত্রে জানা যায়, মোংলা বন্দরের মাধবি পোট কলোনি আবাসিক এলাকায় একই ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন, নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার ও অভিযুক্ত ইয়ার মো সমীর। ওই সুবাধে গত ২৫ অক্টোবর পাঁচ বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণ করে সে। পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর পর এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করে শিশুটির পিতা ও বন্দর কর্মচারী।
শিশুটির পিতা মুঠোফোনে জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করেছে তিনি। এখন শিশুটি সুস্থ আছেন বলে তিনি জানান।
পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯১-এর সংশ্লিষ্ট প্রবিধি অনুযায়ী গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত করে ইয়ার মোঃ সুমিরকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
রবিবার (১ নভেম্বর) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) লেঃ কর্নেল মোঃ আরিফ বিল্লাহ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বরখাস্তের এই নির্দেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়, বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বিধি মোতাবেক কেবল খোরাকী ভাতা পাবেন এবং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।এদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের অপর এক আদেশে অভিযুক্তের নামে বরাদ্দ থাকা বন্দর আবাসিক ভবনে তার নামে বরাদ্দ থাকা ফ্ল্যাটটির বরাদ্দ বাতিল করা হয়। মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের
সম্পত্তি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মোস্তফা জামান স্বাক্ষরিত আদেশে স্থায়ী বন্দর মাধবী আবাসিক এলাকার এইচ-২/৬ নম্বর ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়। এতে বলা হয়, চিঠি জারির তারিখ থেকে আগামী সাত দিনের মধ্যে ফ্ল্যাটটি খালি করে কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে বাসা খালি না করলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ওই ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত ইয়ার মো: সুমির। তার স্থায়ী ঠিকানা সিলেটের হবিগঞ্জ এলাকায়। তিনি পরিবার নিয়ে বন্দর আবাসিকে বসবাস করতেন। তার মুঠোফোন ও বন্ধ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের এক কর্মচারী জানান, ওই শিশুটিকে এই তৃতীয় বারের মতো নির্যাতন চালায় সমীর। আগের ঘটনায় শিশুটি ভয়ে মুখখোলেনি। এবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় সে সব বিষয়টি তার বাবা মাকে জানিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) লেঃ কর্নেল মোঃ আরিফ বিল্লাহ জানান, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সুশাসন বজায় রাখতে শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি বরাদ্দকৃত আবাসিক বাসা বাতিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। কোনো প্রকার অপরাধকে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রশ্রয় দেবে না।
এ ব্যাপারে মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, বন্দরের এক কর্মচারীর শিশুকন্যার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত আসামীকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: