• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

Inhouse Drama Promotion
Inhouse Drama Promotion

ঋণ খেলাপিদের জন্য আরও সুবিধা, খেলাপি আরো বাড়ার শংকা

প্রকাশিত: ১৯:৪০, ২১ জুন ২০২৩

ফন্ট সাইজ
ঋণ খেলাপিদের জন্য আরও সুবিধা, খেলাপি আরো বাড়ার শংকা

বাংলাদেশে ঋণ খেলাপিদের আরও সুবিধা দেয়া হলো। এবার তারা কিস্তির অর্ধেক শোধ করতে পারলেই তাদের আর ঋণখেলাপি বলা হবে না। এর আগেও তাদের নানা ধরনের সুবিধা দেয়া হলেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ না কমে, বরং বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রাান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কিস্তির ৫০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ কলেই তাদের আর ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা হবেনা। এর ফলে যারা খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন তারা কিস্তির ৫০ ভাগ দিয়ে নিয়মিত গ্রাহক থাকতে পারছেন। তবে এই সুবিধা দেয়া হচ্ছে মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে। আর ব্যাংক খাতের ১৫ লাখ কোটি টাকার মধ্যে অর্ধেকই মেয়াদি ঋণ।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ব্যসায়ীদের ছাড় দেয়ার জন্য এই নিয়ম করা হয়েছে। এর আগেও ঋণখেলাপিদের অনেক সুবিধা দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে কোনো ঋণ পরিশোধ না করেও খেলাপি ঘোষণা থেকে মুক্ত ছিলেন গ্রাহকেরা।  ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রেও সুবিধা দেয়া হয় । ঋণের ২.৫ থেকে চার শতাংশ ব্যাংকে জমা দিয়ে নিয়মিত করার সুযোগ দেয়া হয়। আগে এই হার ছিলো ১০ শতাংশ। কিন্তু তারপরও খেলাপি ঋণ কমছে না, উল্টো বাড়ছে।

গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের যে হিসাব তৈরি করেছে  তাতে চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। আগের বছর ২০২২ সালের একই সময়ের চেয়ে তা ১৬ শতাংশ বা ১৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা বেশি। আর সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বরের চেয়ে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক শেষে তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৯ শতাংশ বা ১০ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।

এই খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপন করা ঋণ যুক্ত করা হয়নি। জানুয়ারি শেষে এর পরিমাণ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি হয়ে যাওয়া আদায় অযোগ্য ঋণকে তিন বছর পর অবলোপন (রাইট) করতে পারে ব্যাংক, যা খেলাপির তালিকায় না রেখে পৃথক হিসাব রাখা হয়।

পুনঃতফসিল করা ঋণের হিসাবও খেলাপি ঋণের তালিকায় থাকে না। আর আদালতে রিট করেও অনেকে খেলাপি হওয়া আটকে রেখেছেন। ব্যাংক চাইলেই নানা কৌশলে খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। আইএমএফের হিসাবে বাংলাদেশে প্রকৃত খেলাপি ঋনের পরিমাণ তিন লাখ কোটি টাকা। তাই খেলাপি ঋণের বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তথ্য প্রকৃত চিত্র নয়। অনেক ব্যাংক ঋণ আদায় করতে না পেরে তারল্য সংকটে ভুগছে।

সিরডাপের পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, "বাংলাদেশ ব্যাংকের এইসব উদ্যোগ বা সুবিধা কোনো কাজে আসে না। খেলাপি ঋণ আরো বাড়ে। খেলাাপি ঋণ আদায়ের জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। ব্যাংক থেকে টাকা  নিয়ে ফেরত না দেয়া একটা বাংলাদেশে কালচারে পরিণত হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেয়া যায় না। ফলে যাদের ক্ষমতা আছে তারা এভাবেই ব্যাংকের টাকা নিয়ে যায়।”

তার কথা,"এখানে একটি অংশ আছে যারা প্রকৃতই খেলাপি। যারা ঋণ নিয়েছেন ব্যবসা করতে, সফল হননি। কিন্তু একটি গ্রুপ আছে যারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি। তারা একটি পরিকল্পনা করেই ব্যাংকের টাকা নেয়। তাদের উদ্দেশ্যই থাকে ব্যাংক থেকে টাকা নেয়া এবং ফেরত না দেয়া। এদের কেউ আছে এই টাকা নেয়ার জন্য তথাকথিত কিছু অবকাঠামো তৈরি করে। আরেক গ্রুপ আছে তারা  ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেয়। ওইসব প্রতিষ্ঠানের আদৌ কোনো অস্তিত্ব নেই। তাহলে প্রশ্ন তারা কীভাবে ঋণ নেয়? এর সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালক থেকে শুরু করে অন্য কর্মকর্তারাও যুক্ত থাকেন। যদি ধরেও নিই যে ব্যাংক ঠিক মতো যাচাই করতে পারেনি। তাহলে তাদের এই প্রতারণা যখন ধরা পড়ে তখন কেন ব্যবস্থা নেয়া হয় না? তাদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ক্ষমতার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। নেয়া হলে তো এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।”

যমুনা ব্যংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) মো. নুরুল আমিন  গত মাসে ঋণ খেলাপির পরিমান বাড়ার পর ডয়চে ভেলেকে ববলেন, "উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমেও অনেক খেলাপি ঋণ হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। রিসিডিউল করা ঋণ হিসাবে রাখা হয়না। আরো অনেক কৌশল আছে খেলাপি ঋণ কম দেখানের। তাই বাস্তবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এর বড় একটি অংশ আর কখনোই ফেরত পাওয়া যাবে না।”

তার মতে,"এখানে ইচ্ছাকৃত খেলাপিই বেশি। আর মোট খেলাপি ঋণের  ৮০ শতাংশেরও বেশির জন্য অল্প কিছু প্রভাবশালী লোক দায়ী। এরা স্বেচ্ছায় খেলাপি। আসলে বছরের পর বছর এদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরত না দেয়ার ব্যবসার একটি  "ঋণ খেলাপি মডেল” দাঁড়িয়ে গেছে।”

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, "বাংলাদেশ ব্যাংকের এইসব উদ্যোগ বা সুবিধা খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য নয়, বড় বড় ঋণখেলাপিদের আড়াল করার জন্য। এখনকার অর্থমন্ত্রী যতদিন থাকবেন, সালমান এফ রহমান যতদিন প্রধানমন্ত্রীর বেবসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা থাকবেন ততদিন এভাবেই আড়াল করার চেষ্টা চলতে থাকবে। আমরা এই সময়ে কোনো খেলাপি ঋণ আদায় হতে দেখিনি। বেক্সিমকো তো বড় ঋণ খেলাপি ছিলো। এখন আড়াল করে ফেলা হয়েছে।”

তার কথা, "বাংলাদেশের এই যে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের ৮৫ ভাগই বড় বড় ঋণখেলাপিদের, রাঘব বোয়ালদের। আর বাকি ১৫ শতাংশ কয়েক হাজার ছোট ঋণখেলাপির। এই ১৫ শতাংশ বড় সমস্যা নয়। বড় সমস্যা রাঘব বোয়ালরা।  রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে তো কখনোই কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ”

২০১৯ সালে শীর্ষ ৩০০ খেলাপির তালিকা সংসদে প্রকাশ করা হয়।  সংসদে তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানিয়েছিলেন, তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। গত জানুয়ারিতে শীর্ষ ২০ খেলাপির তালিকা সংসদে প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। তবে ওই পর্যন্তই। বাস্তবে তাদের ব্যাপারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত
Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2