• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

অবশেষে বাড়লো প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের গ্রেড, বেতন কত? 

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
অবশেষে বাড়লো প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের গ্রেড, বেতন কত? 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। এখন থেকে দশম গ্রেড অনুযায়ী তাদের বেতন নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস++ সফটওয়্যারে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। এতে সই করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমাতুজ জোহরা।

আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমানে ১১তম গ্রেডে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস++ সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

দশম গ্রেডে মূল বেতন কত
নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী, দশম গ্রেডে একজন প্রধান শিক্ষকের মূল বেতন শুরু হবে ৩২ হাজার টাকা থেকে। ধাপে ধাপে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত হবে।

এর আগে দশম গ্রেডের বেতন কাঠামোয় মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত ছিল।

দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদ ১১তম ও ১২তম গ্রেডের মধ্যে ছিল। পুরোনো বেতন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের মূল বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে এবং ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে।

নতুন বেতন স্কেলে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ২৫ হাজার থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড উন্নীত হলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড বাড়ানোর দাবিতে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে তারা ১৩তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। নতুন বেতন স্কেলে এ গ্রেডের মূল বেতন শুরু ২৪ হাজার টাকা থেকে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সহকারী শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বেতন গ্রেড ১৩তম থেকে ১১তম করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া বেতন কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যেও পড়ে না।

পরে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম করার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ বিভাগেও পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বর্ধিত গ্রেডে বেতন দিতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বকেয়া বেতন নিয়ে যা জানা গেল
দশম গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকরা গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন। তবে নতুন আদেশে বকেয়া বেতন পাওয়ার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি আদেশ বা জিও জারির আগের সময়ের জন্য কোনো আর্থিক বকেয়া প্রাপ্য হবে না। অর্থাৎ জিও জারির আগে থেকেই দশম গ্রেড কার্যকর ধরে যে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা ছিল, সেই অর্থ বকেয়া হিসেবে দেওয়া হবে না।

আদালতের রায়ের পর ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড দশম করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু প্রশাসনিক ও কারিগরি নানা জটিলতায় এতদিন নতুন গ্রেড অনুযায়ী তাদের বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে বর্তমানে সাড়ে ৩ লাখের বেশি শিক্ষক কর্মরত। এর বাইরে সম্প্রতি প্রায় ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের আগামী ১১ অক্টোবর পদায়নের কথা রয়েছে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: