• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২

মাকে বিয়ে দিতে পাত্র খুঁজছেন ছেলে

প্রকাশিত: ১৫:৪৪, ১ আগস্ট ২০২২

আপডেট: ১৬:৪৪, ১ আগস্ট ২০২২

ফন্ট সাইজ
মাকে বিয়ে দিতে পাত্র খুঁজছেন ছেলে

মা ডলি আক্তার ও ছেলে অপূর্ব

মায়ের বিয়ের জন্য পাত্র চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন ছেলে! হ্যাঁ অবাক হলেও এমন ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। দুই বছর আগে বাবা মারা যাওয়ায় মা অনেকটা একা হয়ে পড়েছেন। দুই ছেলে মাকে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। মায়ের বাকিটা জীবন ভালো রাখার পরিকল্পনা নিয়ে মায়ের সম্মতি নিয়ে তার জন্য পাত্র খুঁজছেন দুই ছেলে। মায়ের জন্য পাত্র চেয়ে দেওয়া বিজ্ঞাপন ঘুরে বেড়াচ্ছে ফেসবুকে।

গত শনিবার (৩০ আগস্ট) মায়ের জন্য পাত্র চেয়ে বিজ্ঞপ্তিটি পোস্ট করেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ অপূর্ব। তিনি ‘জি অ্যান্ড টেক’ নামের একটি অনলাইন পেজের মাধ্যমে ব্যবসা করছেন। তার বড় ভাই মোহাম্মদ ইমরান হোসেন। তিনিও ব্যবসা করেন। শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ‘বিসিসিবি মেট্রিমনিয়াল: হেভেনলি ম্যাচ’ নামের ফেসবুক গ্রুপে মায়ের জন্য পাত্র চেয়ে বিজ্ঞপ্তিটি পোস্ট করেন অপূর্ব।

আরও পড়ুন: বিয়ের পরে মামুন হয়েছেন উদ্যোক্তা, শিক্ষিকার পদোন্নতি

জানা গেছে, ইমরান-অপূর্বের বাবা ঈয়াদ আলী দুই বছর আগে মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ক্যানসারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তাদের মা ডলি আক্তারের বয়স ৪২ বছর। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে মায়ের জন্য পাত্র খোঁজার পোস্টে পাত্রের গুণাগুণও উল্লেখ করেছেন ছেলে। অপূর্ব লিখেছেন, মায়ের সঙ্গে মানানসই পাত্র চায়। পাত্র ঢাকার আশপাশের হলে ভালো হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হলে সমস্যা নেই। পাত্রের পেশা চাকরি বা ব্যবসা—যেকোনোটা হতে পারে। ধর্মকর্ম করার পাশাপাশি পাত্রকে সাদামাটা হতে হবে। যিনি মায়ের জীবনের বাকি চলার পথের সঙ্গী হতে পারবেন। পাত্রের বয়স ৪২ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হলে ভালো হয়।

মায়ের জন্য পাত্র চেয়ে দেওয়া ছেলে অপূর্বর ফেসবুক পোস্ট

সামাজিক মাধ্যমে অপূর্বের বিজ্ঞপ্তিটি ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেছে। কয়েক হাজার মানুষ তার পোস্টে রিয়েক্ট করেছে। আর প্রায় হাজার খানেক মন্তব্য যোগ হয়েছে। যার বেশিরভাগই ইতিবাচক। মায়ের প্রতি এমন দায়িত্ব দেখে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।

অপূর্ব জানান, বিজ্ঞপ্তিতে আসা মন্তব্য পড়ে বেশ ভালো লাগছে। অধিকাংশ মন্তব্যকারী আমাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। মা যাতে একজন উপযুক্ত জীবনসঙ্গী পান, সে জন্য তাকে অনেকেই অগ্রিম শুভকামনা জানিয়েছেন। এভাবেই আমাদের সমাজে পরিবর্তন আসবে। কেননা বিধবা মানুষের যে কষ্ট, সেটাকে সমাজ বোঝে না। কিন্তু তাদের প্রতি অবশ্যই আমাদের দায়িত্ব আছে এটা বুঝতে হবে সবাইকে।

 

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: