• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীরবে যে ক্যান্সারের ঝুঁকিতে আছে প্রতি ১০ জন পুরুষের একজন 

প্রকাশিত: ১৮:৪১, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নীরবে যে ক্যান্সারের ঝুঁকিতে আছে প্রতি ১০ জন পুরুষের একজন 

শরীরে নীরবে বেড়ে চলেছে ক্যান্সার, অথচ কোনো লক্ষণ নেই। একপর্যায়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে মেরুদণ্ড, পাঁজর কিংবা খুলির হাড়ে। দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ার এমন ঘটনা ঘটছে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে। প্রতি ১০ জনে প্রায় একজন এই ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

প্রোস্টেট ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ মিলন চত্বরে র‍্যালি ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জন্স (বিএইউএস) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগ যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সময়মতো রোগ শনাক্ত করাই বড় বিষয়। দেরি হলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যেতে পারে; আর শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ের সুযোগ অনেক বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সার অন্যতম প্রধান ক্যান্সার। এর উদ্বেগের বিষয় হলো, শুরুর দিকে অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ থাকে না।

বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষরা প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে এর কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্তকরণে রক্তের সিরাম পিএসএ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি এককভাবে ক্যান্সার নিশ্চিত করে না। প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসোনোগ্রাম, এমআরআই এবং বায়োপসি করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ হয় এবং জটিলতা কমে। কিন্তু প্রোস্টেট ক্যান্সার অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে। এমনকি ক্যান্সার মেরুদণ্ড, পাঁজর কিংবা খুলির হাড়ে ছড়িয়ে পড়ার পরও রোগী চিকিৎসকের কাছে আসেন।

বিএইউএসের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, সময়মতো শনাক্ত করা গেলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরত্বপূর্ণ।

বিএইউএসের সায়েন্টিফিক পার্টের সদস্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নাছির উদ্দিন কাজল বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের নিরাময়মূলক চিকিৎসা সম্ভব। স্ক্রিনিংয়ে মূলত পিএসএ ও শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। সন্দেহ থাকলে এমআরআই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োপসি করা হয়।

তিনি বলেন, ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর যাদের নিকটাত্মীয়ের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়স থেকেই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসা প্রয়োজন।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: