• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

হরমুজের পর আন্তর্জাতিক নৌ-পথের আরেকটি কেন্দ্রও ইরানের কবজায়?

প্রকাশিত: ০৮:৫৪, ৩১ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হরমুজের পর আন্তর্জাতিক নৌ-পথের আরেকটি কেন্দ্রও ইরানের কবজায়?

হরমুজ প্রণালির পর এবার ওমান উপসাগরের ওপরও নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার শাহরাম ইরানি জানিয়েছেন, কৌশলগত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বর্তমানে ইরানের সামরিক উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালির পর এবার ওমান উপসাগরেও নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্যের ঘোষণা দিল ইরান। মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তেহরান জানিয়ে দিলো—এই অঞ্চলে যেকোনো উস্কানির কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত তাদের সামরিক বাহিনী।

নৌবাহিনীর এক শীর্ষ কমান্ডার জানিয়েছেন, কৌশলগত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বর্তমানে ইরানের সামরিক উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

২৯ মার্চ ওয়ানা নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি কমান্ডার শাহরাম ইরানি দাবি করেছেন-তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন বাহিনী আসার অপেক্ষায় রয়েছে সেনারা। তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতা ও সামরিক মহড়ার মুখে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

এই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করতে চায় যে, কেবল নিজেদের জলসীমা নয়, বরং আন্তর্জাতিক নৌ-পথের কেন্দ্রও তাদের কবজায়। যা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর বিকল্প তেল পাইপলাইন ব্যবহারের পরিকল্পনাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ইরানের ভৌগোলিক নৈকট্য এবং ড্রোন-মিসাইল প্রযুক্তির কারণে মার্কিন বাহিনীর জন্য সেখানে 'নিরাপদ' বা 'ঝুঁকিহীন' অবস্থান নেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

দ্য রুসি জার্নালের এডিটর কেভিন রোল্যান্ডস বলেন, ‘ইরানের ক্ষেত্রে বিশেষ বিষয়টি হলো, পশ্চিমা দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের মতো তাদের কোনো শক্তিশালী 'ব্লু-ওয়াটার' বা দূর সমুদ্রে চলাচলকারী নৌবাহিনী নেই। এর পরিবর্তে তারা মূলত নিজস্ব অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। সহজ কথায়, তাদের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া যাতে জাহাজ চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। আর এটি করার জন্য তারা নানা পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। যেমন—উপকূলীয় কামান ও মিসাইল সিস্টেম, যা সরাসরি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, এছাড়া তাদের এমন এক বিমানবাহিনী রয়েছে যারা জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম। তাদের প্রচুর ছোট ছোট স্পিডবোট রয়েছে; তারা 'সোয়ার্মিং' বা ঝাঁক বেঁধে ছোট ছোট নৌযান দিয়ে হামলার কৌশল ব্যবহার করে, যা পশ্চিমা যুদ্ধজাহাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে বিভ্রান্ত ও পর্যুদস্ত করে দেয়। আর অবশ্যই, তাদের ড্রোন এবং সমুদ্রতলে মাইন পাতার শক্তিশালী সক্ষমতা তো রয়েছেই।

ইরান এমন এক প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরি করেছে যাতে মার্কিন জাহাজগুলো উপকূলের কাছাকাছি আসতে ভয় পায়। মার্কিন বাহিনীর সক্ষমতা বিশাল হলেও ওমান উপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থান ইরানের অনুকূলে। ইরানের সস্তা কিন্তু কার্যকরী ড্রোন এবং সমুদ্রতলে মাইন পাতার ক্ষমতা মার্কিন বড় যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য বড় হুমকি।

ওমান উপসাগর হলো পারস্য উপসাগর থেকে খোলা সমুদ্র বা আরব সাগরে বের হওয়ার মূল পথ। ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ওমান উপসাগরেও ইরানের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার দাবি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করতে পারে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত