ইরান দখলে নিতে গেলে চড়া মূল্য দিতে হবে মার্কিন সেনাদের!
১০ হাজার নয় ইরান জয় করতে হলে আমেরিকার পাঠাতে হবে ১০ লাখ সেনা, এমন মন্তব্য বিশ্লেষকদের। তারা বলছেন, মাত্র ১০ হাজার সেনা পাঠিয়ে ইরান যুদ্ধে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা হাস্যকর। জটিল ভৌগোলিক অবস্থান আর বিশাল আয়তনের ইরানকে দখলে নিতে গিয়ে চড়া মূল্য দিতে হবে পারে মার্কিন সেনাদের, শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালানোর যে পরিকল্পনা করছেন, সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে তা অসম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা পাঠানোর কথা ভাবছেন ট্রাম্প। সেখানে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার মার্কিন প্যারাট্রুপার ও পাঁচ হাজার মেরিন সেনাকে স্থল যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানে সাফল্য পেতে হলে এই সামান্য কয়েক হাজার সেনা নয়, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় পুরোটাই মোতায়েন করতে হবে।
এ নিয়ে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টে বিশ্লেষণী এক লেখায় ২০০৩ সালে ইরাক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিক স্যাম কায়লি বলেছেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাক আক্রমণ শুরু করেছিলেন, এবং ২০০৭-০৮ সালে সেখানে যুদ্ধ তুঙ্গে থাকাকালে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়। সেসময় ইরাকি সরকারি বাহিনীও প্রায় ৪.৫ থেকে ৫ লাখ সদস্য নিয়ে বিদ্রোহ দমন করতে অংশ নিয়েছিল। তারপরও দেখা গেছে, আল-কায়েদা এবং সাদ্দামের বাথ পার্টির কিছু সদস্য নিয়ে গঠিত ইসলামিক স্টেট- আইএস ২০১৪ সালে ইরাকের উত্তরের বড় অংশ দখল করতে সক্ষম হয়।
ইরান আয়তন ও সামরিক শক্তিতে ইরাকের চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী। বর্তমানে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ৫০ হাজারের কিছু বেশি সেনা, নাবিক ও বিমানসেনা রয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে সব মিলিয়ে অতিরিক্ত ২০ হাজার সেনা পাঠানোর কথা ভাবছে। এ প্রসঙ্গে কিলি বলেন, মনে রাখতে হবে, ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে মিত্রবাহিনীর সবচেয়ে বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। তখন সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনা মিলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায়। অথচ হেলমান্দ আয়তনে ইরানের মাত্র ২৮ ভাগের এক ভাগ।
প্রায় ৯ কোটি মানুষের দেশ ইরান আয়তনে বলা চলে পশ্চিম ইউরোপের সমান। এমন একটি দেশের বিরুদ্ধে স্থল অভিযানের জন্য বর্তমানে যে পরিমাণ মার্কিন সেনা পাঠানোর চিন্তা করা হচ্ছে, তা আফগান যুদ্ধের হেলমান্দে পাঠানো সেনার চেয়েও কম। এটিকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন কায়লি।
তিনি বলেন, দুর্ধর্ষ কিছু সেনা ইউনিট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ছোটখাট কিছু দ্বীপ দখলে নিতে প্রাথমিক পর্যায়ে হয়তো সফলও হয়ে পারে, কিন্তু সেই সাফল্য কতক্ষণ স্থায়ী হবে, সেটাই মূল প্রশ্ন।
সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে রাশিয়ার পরীক্ষিত বিশেষ ড্রোনগুলো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। রাশিয়া নিশ্চিতভাবেই ইরানে এসব ড্রোন সরবরাহ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। হয়তো দেখা যাবে, ঝাঁকে ঝাঁকে সেসব ড্রোন মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং সরাসরি সম্প্রচার করছে সেই করুণ দৃশ্য।
ইরাক ও আফগান যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্যার নিক বোরটনের মতে, ইরানে স্থল অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ‘কয়েক লাখ’ সেনা প্রয়োজন হবে। ন্যাটোর সাবেক কয়েকজন জেনারেলও মনে করেন, ইরানে স্থলযুদ্ধে সফল হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘১০ লাখের বেশি’ সেনা পাঠাতে হবে।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: