• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি, তবে দীর্ঘস্থায়ী হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশিত: ১৮:০১, ৯ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ১৮:০৪, ৯ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি, তবে দীর্ঘস্থায়ী হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও পরবর্তী কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সভ্যতা “ধ্বংস করে দেওয়ার” হুমকি দিলেও মাত্র এক দিনের মধ্যে অবস্থান বদলে পাকিস্তানে আলোচনার জন্য ইরানের প্রস্তাবিত দশ দফা পরিকল্পনাকে “কার্যকর ভিত্তি” হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে টানা সংঘাতে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য এই যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে। তবে লেবাননে এর প্রভাব পড়েনি; সেখানে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয় বলে দাবি করে ইসরাইল বড় পরিসরে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স “ভঙ্গুর সমঝোতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই নিজেদের বিজয় দাবি করলেও বাস্তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো তীব্র।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের “ঐতিহাসিক ও অপ্রতিরোধ্য সামরিক বিজয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, তেহরান থেকেও সমান জোরে বিজয়ের দাবি এসেছে। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, “বিশ্ব একটি নতুন শক্তিকেন্দ্রের উত্থান দেখছে, এবং ইরানের যুগ শুরু হয়েছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের ক্ষয়ক্ষতি তাকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে—এমন দাবি যেমন রয়েছে, তেমনি ইরান মনে করে তাদের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাই যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় আনতে বাধ্য করেছে।

ইরানের প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজে মেনে নেওয়া কঠিন।

ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনা দুই সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে, তবে তা সফল হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। এর আগে জেনেভায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালে অগ্রগতি দেখা গেলেও হঠাৎ করেই পুনরায় হামলা শুরু হওয়ায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

এবার আলোচনায় হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময় জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে, তবে তা তাদের সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে করতে হবে। এমনকি সুয়েজ খালের মতো টোল আদায়ের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ইসরাইল সরাসরি অংশ নেয়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরও কঠোর অবস্থান নিতে চাইলেও দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।

এদিকে, চীনের ভূমিকা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে ট্রাম্পের আগ্রাসী বক্তব্য ন্যাটোসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও চাপ তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি সাময়িক স্বস্তি আনলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির। কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত স্থায়ীভাবে থামবে, নাকি আবারও বড় আকারে বিস্ফোরিত হবে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত