• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির ফাঁদ! হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে ইসলামাবাদ?

প্রকাশিত: ১০:৫৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১০:৫৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির ফাঁদ! হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে ইসলামাবাদ?

এক বছর আগেও সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করাকে পাকিস্তানের জন্য বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সেই চুক্তিই এখন ইসলামাবাদের জন্য এক সংকটময়ত পরিস্থিতি হাজির করেছে। ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠায় প্রশ্ন উঠছে, চুক্তির জেরে সৌদির প্রতিরক্ষায় শেষ পর্যন্ত কি পাকিস্তান যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে? তেমন শঙ্কা ক্রমশই দানা বাঁধছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। 

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রিয়াদে পাকিস্তান ও সৌদি আরব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। এতে বলা হয়, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে উভয়ের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের জন্য চুক্তিটি ছিল বিশাল এক সাফল্য। কেননা চুক্তির ফলে তীব্র অর্থসংকটে ভোগা পাকিস্তান পাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও ঋণ। 

কিন্তু ওই চুক্তির পরই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেহরানের তীব্র পাল্টা হামলার মুখে সৌদি আরব নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। সার্বিক প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে হওয়া পূর্বের যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়ে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হুথিরা বাব আল মান্দেবসহ লোহিত সাগরের উপকূলে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে নেয় এবং সৌদি ভূখণ্ড, জ্বালানি অবকাঠামো ও শহরগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে থাকে।

এখন ঐ চুক্তির সামনে হাজির হয়েছে এক অগ্নিপরীক্ষা। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইতোমধ্যেই বলেছেন, ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে ঐ চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এও বলা হচ্ছে, সৌদিকে রক্ষায় যে কোনো পর্যায়ে সক্রিয় হতে প্রস্তুত ইসলামাবাদ। 

কিন্তু গার্ডিয়ান বলছে, বাহ্যিক মনোভাব কড়া হলেও পর্দার আড়ালে পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের এই অশেষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে। একদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদার। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন কোনো সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া মানে তেহরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ঝুঁকিতে পড়া। 

এর বাইরে পাকিস্তান বর্তমানে নিজেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চাপে আছে। আফগান সীমান্তে তালেবানদের সাথে উত্তেজনা, দেশটির অভ্যন্তরে জঙ্গি তৎপরতা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতা ইসলামাবাদের সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করছে। এর মধ্যে ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধে জড়ানো পাকিস্তানের জন্য ব্যাপক ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। 

এরই মাঝে চলমান পরিস্থিতিকে অশনি সংকেত ইঙ্গিত করে পাকিস্তান সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা রাজা নাসির আব্বাস বলেছেন, পাকিস্তান যদি এই যুদ্ধে ঝাঁপ দেয়, তবে তা দেশের জন্য মহাবিপর্যয় নিয়ে আসবে। আমরা ইতোমধ্যে দুটি রক্তক্ষয়ী সংঘাত সামলাচ্ছি; দেশের অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মূল্যস্ফীতিও আকাশচুম্বী। এ অবস্থায় সৌদির যুদ্ধে যোগ দিলে দেশে চরম বিশৃঙ্খলা ও ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি হবে। ইরানের পর পাকিস্তানেও সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিয়া বসবাস করে।

বিভি/এইচজে

মন্তব্য করুন: