• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পারমাণবিক পরীক্ষার জেরে ১,৩৯৯ ভূমিকম্প উত্তর কোরিয়ায়!

প্রকাশিত: ১১:২৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১১:২৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পারমাণবিক পরীক্ষার জেরে ১,৩৯৯ ভূমিকম্প উত্তর কোরিয়ায়!

পারমাণবিক পরীক্ষার জেরে উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র ও তার আশপাশের অঞ্চলে আশঙ্কাজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে ভূমিকম্প প্রবণতা। ২০১৭ সালে দেশটির সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষার বহু বছর পার হয়ে গেলেও এই ভূকম্পন প্রক্রিয়া এখনো থামেনি। বরং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব ভূমিকম্পের সংখ্যা ও শক্তি বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও চীনের চেংদু ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটি।

এতে বলা হয়েছে, বরাবরই ভূতাত্ত্বিকভাবে তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল উত্তর কোরিয়ার মানতাপ পর্বত এবং এর আশপাশের অঞ্চল। ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত ভূকম্পনবিষয়ক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা মানতাপ পর্বতের চারপাশে ১ হাজার ৩৯৯টি স্থানীয় ভূমিকম্প শনাক্ত করেছেন। এই পর্বত এলাকাতেই অবস্থিত পুঙ্গেরি পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র, যেখানে উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মোট ছয়টি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়।

গবেষণা বলছে, ২০১৭ সালের ষষ্ঠ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষার পর এই অঞ্চলের ভূকম্পন আচরণে বড় পরিবর্তন আসে। বিস্ফোরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর, নতুন করে ভূমিকম্পের কার্যক্রম বাড়তে শুরু করে। সাধারণত কোনো ভূগর্ভস্থ বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট ছোট ভূমিকম্পের প্রবণতা কিছু সময় পর কমে আসে। কিন্তু মানতাপ পর্বতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ২০১৭ সালের পর ভূমিকম্পের সংখ্যা এবং শক্তি, দুটিই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং এই প্রবণতা ২০২৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

গবেষকদের ধারণা, ধারাবাহিক পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে মানতাপ পর্বতের ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরে ব্যাপক ক্ষতি ও ফাটল তৈরি হয়। বিশেষ করে ২০১৭ সালের শক্তিশালী বিস্ফোরণ ভূগর্ভের চাপের ভারসাম্যেও পরিবর্তন ঘটায়। এর ফলে আগে থেকেই সক্রিয় হওয়ার কাছাকাছি থাকা ভূ-চ্যুতিগুলোতে নতুন করে চাপ স্থানান্তরিত হয় এবং ধীরে ধীরে সেগুলো নড়াচড়া শুরু করে। অর্থাৎ, বিস্ফোরণের পরপরই সব ভূমিকম্প ঘটেনি; বরং এর প্রভাব কয়েক বছর ধরে ভূগর্ভে চলমান ছিল বলে গবেষকেরা মনে করছেন।

গবেষকেরা বলছেন, এই আবিষ্কার শুধু উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো পারমাণবিক বিস্ফোরণের বহু বছর পরও যদি একই এলাকায় ভূমিকম্প হতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে নতুন কোনো বিস্ফোরণ ঘটলে সেটি প্রাকৃতিক ভূমিকম্প নাকি পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে সৃষ্ট ভূকম্পন, তা আলাদা করে শনাক্ত করা আরও কঠিন হতে পারে।

মন্তব্য করুন: