• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার সেই সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসেই ঢুকতে দিলেন না ট্রাম্প!

প্রকাশিত: ০১:১৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
এবার সেই সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসেই ঢুকতে দিলেন না ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ওপর হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পরই তা কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কয়েকজন সাংবাদিকের প্রেস ব্যাজও নিষ্ক্রিয় ও জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এমএস নাওয়ের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক আকায়লা গার্ডনার ও একজন ফটোগ্রাফার প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে তাদের ব্যাজ স্ক্যান না হওয়ায় একজন কর্মকর্তা ব্যাজগুলো নিয়ে নেন বলে জানান গার্ডনার। ওই কর্মকর্তা তাকে জানান, ব্যাজটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং কেন এমন করা হয়েছে, সে সিদ্ধান্ত তার এখতিয়ারের বাইরে।

গার্ডনার জানান, তার ও তার সহকর্মীর ব্যাজ নিষ্ক্রিয় থাকলেওএমএস নাওয়ের একজন প্রযোজক ব্যাজ স্ক্যান করে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে পেরেছেন। তবে ওই প্রযোজকের ব্যাজ কেন সচল ছিল, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সিএনএন এর হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক বেটসি ক্লেইনও জানান, একজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট তাকে বলেছেন, তার ব্যাজ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। পরে পলিটিকো জানায়, তাদের প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেটকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং সিক্রেট সার্ভিস তার প্রেস পাস জব্দ করেছে।

এর এক দিন আগে শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে তাঁর প্রশাসন নিয়ে ‘ফেক নিউজ’ এবং ‘মনগড়া ও মিথ্যা’ প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এসব সংবাদমাধ্যমের কয়েক বছরের ‘সম্মিলিত’ প্রতিবেদন বিবেচনা করেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে অন্য সংবাদমাধ্যমও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

তবে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারের বাধা ছাড়াই কাজ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। এমএস নাও জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস মার্কিন জনগণের এবং সেখানে নেওয়া সিদ্ধান্ত জনগণের করের অর্থে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা ও সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

পলিটিকোর প্রধান সম্পাদক জোনাথন গ্রিনবার্গারও প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিকদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া অধিকার রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি জোরালোভাবে আইনি লড়াই করবে। সিএনএনও বলেছে, সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার তাদের রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলেছে। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, কোনো প্রেসিডেন্ট কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না করলেও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত সংবাদ সংগ্রহের অধিকার তার ওপর নির্ভরশীল নয়।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে একাধিক বিরোধে জড়িয়েছে। ২০২৫ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকদের ওভাল অফিস, প্রেসিডেন্টের বিমানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছিল। এ নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও বিবিসির সঙ্গেও ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি বিরোধ রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: