• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় চুক্তি, সার্বভৌমত্ব ছাড়বে না ডেনমার্ক

প্রকাশিত: ১১:৫২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১১:৫৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় চুক্তি, সার্বভৌমত্ব ছাড়বে না ডেনমার্ক

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘বাধ্যতামূলক’ চুক্তিতে পৌঁছেছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, এতে অঞ্চলটির সার্বভৌমত্ব বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চুক্তিটি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেছেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে এই চুক্তি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করবে। একই সঙ্গে ন্যাটো ও ইউরোপের যৌথ নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে ডেনমার্কের নির্ধারিত ‘লাল রেখা’ বা মৌলিক সীমাগুলোও সম্মান করা হবে বলে জানান তিনি।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং এটি সবার জন্য উপকারী হবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও বলেছেন, চুক্তিটি ন্যাটো ও ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করবে।

তবে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির পরিধি কতটা বাড়বে এবং পররাষ্ট্রনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ওয়াশিংটন কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা পাবে কি না—এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সংসদীয় অনুমোদনের বিষয়ও রয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই কৌশলগত কারণে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে বলে আসছেন ট্রাম্প। তাঁর এমন অবস্থান ডেনমার্কের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি করে। গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টি সেই দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যেই সামনে এলো।

নতুন চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সেনা মোতায়েন থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা থাকবে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ ঠেকানোর ব্যবস্থাও চুক্তিতে থাকার কথা বলা হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে অবশ্য চুক্তিটি নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আকাশ ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তা জোরদারে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। আবার কেউ কেউ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পের বাড়তি আগ্রহ নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড বলছে, নতুন চুক্তিতে অঞ্চলটির সার্বভৌমত্ব ও জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: