শ্রীলঙ্কায় ‘সবচেয়ে বড়’ গণকবর, বিপুলসংখ্যক দেহাবশেষ উদ্ধার!
ছবি: বিবিসি বাংলা
শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলে একটি গণকবর থেকে শিশু ও নবজাতকসহ ৫৭২ জনের কঙ্কালাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের তৃতীয় ধাপ শেষে এতো বিপুলসংখ্যক দেহাবশেষ পাওয়ার পর এটিকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় গণকবর বলে মনে করা হচ্ছে।
জাফনা অঞ্চলের চেম্মানি এলাকায় গত ফেব্রুয়ারিতে একটি শ্মশান সম্প্রসারণের কাজের সময় শ্রমিকেরা প্রথম মানবদেহের অবশিষ্টাংশ দেখতে পান। পরে আদালতের তত্ত্বাবধানে সেখানে খনন শুরু হয়। আগস্টের মধ্যে তৃতীয় ধাপের কাজ শেষ হয়। কঙ্কালাবশেষের পাশাপাশি চুড়ি, একটি স্কুলব্যাগ ও দুধের বোতলের মতো ব্যক্তিগত সামগ্রীও পাওয়া গেছে।
চেম্মানিতে গণকবর থাকার বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। কয়েক দশক আগে এক সেনাসদস্য আদালতে দাবি করেছিলেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষকে হত্যা করে দাফন করা হয়েছিল। ওই বক্তব্যের পর ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে এলাকায় প্রথমবারের মতো খনন চালিয়ে ১০টির বেশি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছিল।
মানবাধিকারকর্মী ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের আশঙ্কা, নতুন করে পাওয়া দেহাবশেষগুলোর সঙ্গে গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের যোগসূত্র থাকতে পারে। তাদের অনেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি। ফলে নিহতদের পরিচয় বা মৃত্যুর কারণও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শ্রীলঙ্কায় ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ হন বলে বিভিন্ন হিসাব রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও তামিল টাইগার—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তবে চেম্মানির বর্তমান গণকবরের সঙ্গে এসব ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক এখনো প্রমাণিত হয়নি।
প্রধান প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক রাজ সোমদেব জানিয়েছেন, খনন ও উদ্ধার করা দেহাবশেষ নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আদালতে জমা দেওয়া হবে। দেহাবশেষের বয়স ও মৃত্যুর কারণ জানতে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হবে। প্রয়োজন হলে নমুনা বিদেশেও পাঠানো হতে পারে।
শ্রীলঙ্কার বিচারমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা বলেছেন, চেম্মানিতে খননকাজ অব্যাহত থাকবে এবং দেহাবশেষের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার তদন্তে সহযোগিতা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী গণহত্যার পর নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিকদের সেখানে দাফন করেছে—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের ভাষ্য, যেকোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে। সূত্র: বিবিসি
বিভি/এমআর













মন্তব্য করুন: