ফিলিস্তিন ইস্যুতে ক্ষমা চাইলেন এড শিরান,কান্নায় ভেঙে পড়লেন মঞ্চে
ফিলিস্তিন ইস্যুতে চলমান বিতর্ক ও চাপের মধ্যে মঞ্চে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। তিনি নিজের কিছু সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমাকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, এবং আমি ভুলও করেছি। এর জন্য আমি খুব, খুব দুঃখিত।’
১৯ সেপ্টেম্বর পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় নিজের 'লুপ' ট্যুর পুনরায় শুরু করেন ব্রিটিশ গায়ক ও গীতিকার এড শিরান। কিন্তু কনসার্ট ভেন্যুর বাইরে ছিল ভিন্ন এক আবহ। স্টেডিয়ামের মূল ফটকের বাইরে জরো হন ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা। তারা ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এবং "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" সহ গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।
অনেক অনুরাগী ও বিক্ষোভকারী প্রতিবাদস্বরূপ কনসার্টের টিকিট ফেরত দিয়ে স্টেডিয়ামের ভেতরে না ঢুকে বাইরের এই বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ তোলেন যে, 'ম্যাকলেমোর'-কে ট্যুর থেকে বাদ দেওয়া সত্ত্বেও এড শিরান ফিলিস্তিনিদের পক্ষে জোরালো কোনো অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা বলেন, গাজায় চলমান মানবিক সংকটের দিকে বিশ্ববাসীর নজর ফেরাতেই তারা স্টেডিয়ামের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মঞ্চে ওঠেন শিরান। পুরো পরিস্থিতির মানসিক চাপ, গাজার বর্তমান সংঘাত এবং ভক্তদের উপস্থিতির আবেগে কনসার্টের এক পর্যায়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। শিরান বলেন, ‘আমাকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, এবং আমি ভুলও করেছি। এর জন্য আমি খুব, খুব দুঃখিত।’
শিরান জানান, তিনি কখনোই নিজেকে ‘অ্যাকটিভিস্ট সংগীতশিল্পী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাননি। তার সংগীতের মূল বিষয় ছিল ঐক্য। কিন্তু ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতকে ঘিরে বিতর্ক তাকে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক ইস্যুর’ মাঝখানে এনে দাঁড় করিয়েছে।
চলতি বছর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে শিরানের সফর শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রে আরও ১৬টি আয়োজন শেষে ডিসেম্বর মাসে মেক্সিকো সিটিতে তার সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আদৌ সংগীতশিল্পী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা―সেটি নিয়েই এখন দ্বিধায় আছেন ৩৫ বছর বয়সী এই সঙ্গীতশিল্পী।
বিভি/এমএফআর













মন্তব্য করুন: