• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের ভাষণে প্রশ্ন তুললেন সানচেজ

“জাতিসংঘের মহাসচিব পদে এতদিনেও কোনো নারী আসেননি কেন?”

প্রকাশিত: ১৪:৫০, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৪:৫১, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
“জাতিসংঘের মহাসচিব পদে এতদিনেও কোনো নারী আসেননি কেন?”

এন্তোনিও গুতেরেসের পর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পদে এবার কোনো নারীর নেতৃত্ব চান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে দেয়া নিজের ভাষণে তিনি এই বার্তা দেন। 

পেদ্রো সানচেজ বলেন, ''জাতিসংঘের দীর্ঘ ইতিহাসে এ পর্যন্ত কখনোই একজন নারী মহাসচিব নির্বাচিত হননি। জাতিসংঘের ৮০ বছরের ইতিহাসে মাত্র নয়জন পুরুষ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার সময় এসেছে একজন নারীর, বিশেষ করে একজন ল্যাটিন আমেরিকান নারীর। কারণ, যে সংস্থাটি পুরো মানবতার প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে, তার নেতৃত্বে এতদিনেও কীভাবে কোনো নারী আসেননি? আর তিন দশক ধরে যদি তৃতীয় জনবহুল মহাদেশের কাউকেই এই পদের সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে এটি কীভাবে সব মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে?''

পেদ্রো সানচেজ আরও বলেন, ''জাতিসংঘের মূল অঙ্গীকার ছিল, এই সংস্থায় প্রতিটি মানুষের স্থান থাকবে। এখন সেই অঙ্গীকারের বাকি অর্ধেক পূরণ করার সময় এসেছে। ল্যাটিন আমেরিকা থেকে একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব করার উপযুক্ত সময় এখনই। এটি একটি ঐতিহাসিক দেনা, যা আমাদের মিটিয়ে ফেলা উচিত। বিশেষ করে আজকের এই সময়ে, যখন নারীবাদ হামলার শিকার এবং হাজার হাজার নারী পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সহিংসতা ও বর্ণবাদের শিকার হচ্ছেন, তখন আমাদের এই অঙ্গীকার আরও জোরালোভাবে বজায় রাখতে হবে।''

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়রের জোহরান মামদানির সাথেও দেখা করেন সানচেজ। মেয়রের বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশন’ -এ আয়োজিত একটি বিশেষ অর্থনৈতিক ফোরামে বৈঠকে বসেন তারা।

সানচেজ তুলে ধরেন যে স্পেনে বিগত বছরগুলোতে সর্বনিম্ন মজুরি ৬৬% বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও বেকারত্ব বাড়েনি, বরং কর্মসংস্থান রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। মামদানি সানচেজের এই নীতিগুলোর প্রশংসা করে জানান, কর্মীদের এই মজুরি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছে। 

পেদ্রো সানচেজ হলেন মধ্য-বামপন্থী সামাজিক-গণতন্ত্রী এবং জোহরান মামদানি হলেন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী। দুজনের দৃষ্টিভঙ্গিই প্রগতিশীল ও বামপন্থী। বিশ্লেষকদের মতে,  বিশ্বজুড়ে উগ্র ডানপন্থী ও পপুলিস্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রগতিশীল ও বামপন্থী দলগুলোর একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই ছিল এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য।

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত