• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৪৪ বছর পর সিঁড়ির ফাঁকে মিললো চিঠি, কী লেখা আছে তাতে?

প্রকাশিত: ২৩:৫৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
৪৪ বছর পর সিঁড়ির ফাঁকে মিললো চিঠি, কী লেখা আছে তাতে?

৪৪ বছর আগে ১০ বছর বয়সী এক কিশোরীর লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে তার বাড়ির সিঁড়ির ভেতরের একটি ফাঁকা জায়গা থেকে। ১৯৮০-এর দশকে ভবিষ্যতের জন্য চিঠিটি সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল মেয়েটি। সম্প্রতি বাড়িটির সংস্কারকাজের সময় চিঠিটি খুঁজে পান এক নির্মাণকর্মী। ইংল্যান্ডের এসেক্সের হকলিতে অবস্থিত বাড়িটিতে সংস্কারকাজ চলছিল। এ সময় কর্মীটি কাগজের টুকরোটি খুঁজে পেয়ে বাড়ির বর্তমান বাসিন্দা মিশেল হারউডের হাতে দেন।

চিঠিটি পেয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন ৩৬ বছর বয়সী এই দাতব্যকর্মী। শিশুর লেখা হলেও হাতের লেখা ‘খুবই পরিপাটি’ বলে মনে হয় তার। চিঠিটির লেখককে খুঁজে বের করতে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় একটি ফেসবুক কমিউনিটি গ্রুপে সেটির ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।

পোস্ট দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকজন ব্যক্তি চিঠির লেখক র‍্যাচেল মাইলসকে শনাক্ত করে ট্যাগ করেন। বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সী মাইলস বাকিংহ্যামশায়ারের মিল্টন কেইন্সে শিক্ষকতা করছেন। এরপর তিনি নিজেই হারউডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

চিঠিটি লেখার প্রায় অর্ধশতাব্দী পর মাইলসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিবিসি। তিনি জানান, ১৯৮০-এর দশকে ‘ব্লু পিটার’ নামের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানের প্রভাবে টাইম ক্যাপসুল তৈরি করা বেশ জনপ্রিয় ছিল।

মাইলস জানান, একদিন তার বাবা সিঁড়ির পেছনে একটি ফাঁকা জায়গা দেখতে পান। তখনই ভবিষ্যতের কারও জন্য সেখানে একটি চিঠি রেখে দেওয়ার কথা তার মাথায় আসে।

তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, ভবিষ্যতের জন্য সেখানে একটি চিঠি রেখে দেওয়া বেশ ভালো হবে। আর এখন কেউ সেটি খুঁজে পেয়েছে দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত।’

মাইলস জানান, নিজের শৈশবের এসেক্সের দিনগুলোর কথা আবার মনে পড়ায় তার বেশ ভালো লেগেছে। তিনি বলেন, কাউন্টি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও এত মানুষ তাকে মনে রেখেছেন এবং পরিচিতদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ হয়েছে—এটি তার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।

চিঠিতে নিজের পরিবারের প্রায় কাউকেই উল্লেখ না করে শুধু তার পোষা বিড়াল ‘কিজি’র নাম লিখেছিলেন মাইলস। বিষয়টি তাকে এখন বেশ হাসিয়েছে। তার ভাষায়, কিজি তখন ওই এলাকার ‘কিংবদন্তি’ ছিল।

হারউড জানান, চিঠিটি হাতে নিয়ে ‘টু দ্য ফাইন্ডার’ বা ‘যিনি এটি খুঁজে পাবেন, তার জন্য’ লেখা অংশটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে, চিঠিটি সেখানে আমার জন্মেরও আগে থেকে ছিল।’

চিঠিটির তারিখ ছিল ১২ আগস্ট ১৯৮২। হারউডের জন্মের আট বছর আগেই চিঠিটি লেখা হয়েছিল।

হারউড ও তার পরিবার গত ১১ বছর ধরে বেটস ফার্ম এস্টেটে বসবাস করছেন। তবে মাইলস জানান, তার পরিবার সেখানে থাকত এমন সময়ে যখন জায়গাটি ছিল নির্মাণাধীন। তিনি ও তার বন্ধুরা তখন সেখানে খেলতেন।

চিঠিটি খুঁজে পাওয়ার পর হারউড মাইলসের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনের বেশ কিছু মিলও খুঁজে পান। মাইলসের জন্ম সাফোকের বুরি সেন্ট এডমন্ডসে, যে এলাকার কাছাকাছি হারউডের স্বামী জোনাথন ছোটবেলায় থাকতেন।

এ ছাড়া, ওই বাড়িতে থাকার সময় দুজনেরই পোষা বিড়াল ছিল। এ কারণেই হারউড পরিবার বাড়িটিতে ওঠার সময় পেছনের দরজায় আগে থেকেই একটি বিড়ালের প্রবেশপথ বা ক্যাটফ্ল্যাপ দেখতে পেয়েছিল বলে মনে করেন হারউড।

চিঠির লেখককে খুঁজে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন হারউড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার সময় তিনি এটিকে ‘দূরবর্তী সম্ভাবনা’ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেখককে খুঁজে পাওয়ায় তিনি নিজেই বিস্মিত।

হারউড বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দারুণ একটি মাধ্যম। কারণ এর মাধ্যমে অনেক মানুষ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।’

সূত্র: বিবিসি

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত