বন্যার পানিতে থইথই ব্যাংকক, রাস্তা রূপ নিলো ‘ভাসমান বাজারে’
বন্যার পানিতে থইথই করছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। কিন্তু এই দুর্যোগেও থেমে যায়নি থাইদের জীবনযাত্রা। যে রাস্তা দিয়ে কিছুদিন আগেও ছুটে চলত শত শত গাড়ি আর মেট্রো, সেই রাস্তাই এখন পরিণত হয়েছে ভাসমান বাজারে।
চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে নিম্নচাপের প্রভাবে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকক ও এর চারপাশের এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিতে শুরু করে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টিতে শহরটির নিচু এলাকাগুলো ১ থেকে ৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়।
ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ব্যাংককের অলিগলি থেকে শুরু করে মূল সড়কগুলোতে এখন যানবাহন চলা একদম কমে গেছে। কিন্তু থাইরা থেমে থাকেননি। যে যার ঘরের ডিঙি নৌকা, বাঁশের ভেলা, এমনকি প্লাস্টিকের ড্রাম কেটে বানানো নৌকা নিয়ে নেমে পড়েছেন রাস্তায়।
কেনাকাটার জন্য এখন আর কাঁচাবাজারে যেতে হচ্ছে না। ঘরের দরজা বা জানালা খুললেই হাতের কাছে ভেসে আসছে ভাসমান দোকান। ভাসমান প্ল্যাটফর্ম ও ককশিটের বাক্সে মাছ, শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাজিয়ে বিক্রেতারা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে নেমে বেচাকেনা করছেন। ক্রেতারাও প্রয়োজন মেটাতে হাঁটুপানি ভেঙে কিংবা ছোট্ট ডিঙি নৌকা চালিয়ে স্টল থেকে স্টলে ঘুরে কেনাকাটা সারছেন।
স্থানীয় বাংকাপি বাজারের ব্যাবসায়ী মারিসা সিংপ্রাকন বলেন, ''আমার দোকানটি বাজারের পেছনের দিকে। গ্রাহকদের হেঁটে ভেতরে আসতে হলে বেশ কষ্ট হয়, কারণ পানির স্তর কখনো কমে আবার কখনো বেড়ে যায়। তারা বেশিক্ষণ পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে আগ্রহী নন। তাই গ্রাহকদের কাছে পণ্য বিক্রি করার জন্য আমাদেরকেই বাইরে পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আসলে মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ বা মেলামেশা করা নিজের মতো করেই উপভোগ করার মতো বিষয়। কিন্তু পরিস্থিতিটা এমন হোক—আমি তা চাই না। আমি চাই সরকারি সংস্থাগুলো যেন এই এলাকার দিকে আরও বেশি নজর দেয়।''
থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ব্যাংককসহ দেশের ৪১টি প্রদেশ প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ লাখ ৮০ হাজারের বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতা কাটাতে আরও সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
সূত্র: রয়টার্স
বিভি/এমএফআর













মন্তব্য করুন: