• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে ৬০০ বছরের পুরোনো মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

প্রকাশিত: ১৫:১১, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ভারতে ৬০০ বছরের পুরোনো মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ৬০০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৮ সালের সিমহাস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতিতে রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদের অংশবিশেষ ভাঙার কাজ শুরু হলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দিতে বুলডোজার নিয়ে আসে স্থানীয় প্রশাসন। তবে স্থানীয় মুসলিমরা এই কাজ আটকাতে দলে দলে মসজিদের ভেতরে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ প্রহরায় মসজিদটির নির্ধারিত অংশ ভাঙার কাজ শুরু হলে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শত শত মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মসজিদটি রক্ষার দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং একাধিক টিয়ার গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। পাথর নিক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া নির্দিষ্ট অভিযোগে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরো এলাকায় প্রায় ২,৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিরর 

পুলিশের দাবি, শাহী মসজিদে ভাঙার কাজ মসজিদ কমিটির উদ্যোগেই চলছে এবং এ কাজে সবার সম্মতি রয়েছে। তবে কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ী মসজিদ ভাঙার সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করছে। 

মুসলিম সম্প্রদায় এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে 'গান্ধীবাদী উপায়ে' অহিংস প্রতিবাদ জানাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াকফ আইন সংশোধন করে জেলা কালেক্টর ও সরকারকে যে অসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্যই হলো মুসলিম সম্প্রদায়ের মসজিদ, দরগাহ, খানকাহ, কবরস্থান ও ঈদগাহের নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া।

এই উচ্ছেদ কার্যক্রমের ফলে মূল নামাজকক্ষের একাংশ ও ১২০ ফুট উঁচু একটি মিনার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় মুসলিমরা ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪, ২৫ ও ২৬ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনার পাশাপাশি অনুচ্ছেদ ৩০০এ-এর অধীনে সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টিকেও আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তারা জানিয়েছেন, এখানে প্রতিকার না পেলে তারা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।
 

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত