যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী-শরণার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ, আরও যা জানা গেল
শরণার্থী, অভিবাসী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবার জন্য মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তর (ওএমবি) জানিয়েছে, এ অর্থ বাতিলের প্রস্তাব ইতোমধ্যে কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে এ প্রস্তাব দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এতে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, আবাসন ও নগর উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা অর্থ বাতিলের কথা বলা হয়েছে। ‘রিসিশন’ বা বরাদ্দ বাতিল বলতে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কংগ্রেসকে নির্দিষ্ট কোনো খাতে অনুমোদিত অর্থ বাতিলের অনুরোধ জানানোকে বোঝায়।
শনিবার সিএনএন প্রথম এ চিঠির খবর প্রকাশ করে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে ‘অ-মার্কিন নাগরিকদের সহায়তায় ফেডারেল করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অবসান’ ঘটানোর প্রশাসনের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এতে ‘আমেরিকানদের অগ্রাধিকার’ দেওয়ার নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা। তাদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ একতরফাভাবে বাতিলের চেষ্টা নির্বাহী ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার শামিল।
রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেছেন, কংগ্রেস অনুমোদিত অর্থ কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বাতিলের যেকোনো প্রচেষ্টা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের পদক্ষেপ মোকাবিলায় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানান।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলিও এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্দিষ্ট খাতের বরাদ্দ বাতিল করা অবৈধ ‘লাইন-আইটেম ভেটো’র মতো। তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট এমনভাবে ব্যয়বিধির পরিবর্তন করছেন, যেন তিনি একাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোন খাতে অর্থ ব্যয় হবে আর কোন খাতে হবে না।
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি বন্ধ করতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট ৫-৪ ভোটে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে।
এ ছাড়া নতুন সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে স্থায়ী আবাসনের অনুমোদন না পাওয়া বৈধ শরণার্থীদের আটক করার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ভিসার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনকারী বিদেশিদের জন্যও নতুন নিয়ম চালু করা হয়। এর আওতায় তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে।
অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী ও ইসরায়েলবিরোধী সমালোচকদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক মাহমুদ খলিল গাজা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: