শিক্ষাব্যবস্থায় চরম সংকট, পুরো ফ্রান্সে ছড়ালো বিক্ষোভ
ফ্রান্সে জীর্ণ স্কুল ভবন, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন এক নজিরবিহীন জেন-জি গণজাগরণে রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে এ আন্দোলন রাজধানীসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার পর দেখা যায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলোতে গণিত, ইংরেজি, ফরাসি ভাষা ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিপুল পরিমাণ শিক্ষকের পদ শূন্য। বহু স্কুলে সপ্তাহের পর সপ্তাহ এসব বিষয়ে কোনো পাঠদান হচ্ছিল না। অথচ সরকারি বাজেট ছাঁটাইয়ের কারণে কোনো বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল না।
এছাড়া বেশিরভাগ স্কুলে একেকটি ক্লাসরুমে ৩৫ জন বা তারও বেশি শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসানো হচ্ছিল। টানা অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, আধুনিক শিক্ষা উপকরণের অভাব এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জটিল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ একপর্যায়ে বিস্ফোরণে রূপ নেয়।
শিক্ষার্থীরা প্রথমে নিজ নিজ স্কুলের সামনে অবস্থান নেওয়া শুরু করে। তারা স্কুলের প্রধান ফটকে বড় আকারের আবর্জনার বিন, কাঠের প্যালেট ও ব্যারিকেড বসিয়ে 'ব্লকেড' তৈরি করে। এতে শিক্ষক ও অন্য শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনটি এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ ছিল টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যম। শিক্ষার্থীরা তাদের ব্লকেড ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ভিডিও চিত্রধারণ করে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে। এসব ভিডিও হ্যাশট্যাগ ও ট্রেন্ডিং-এর মাধ্যমে রাতারাতি অন্য শহর ও এলাকার তরুণদের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং তারাও নিজস্ব স্কুলে একই কর্মসূচি- ঘোষণা করে।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রায় ৫,০০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। যাদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রায় ৪০০ স্কুল বন্ধ ছিল। দেশটির মোট ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৬৪টিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সবমিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
সন্তানদের বিক্ষোভে না পাঠাতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের শিক্ষাবিভাগীয় প্রধান এদুয়ার্দ জেফ্রে। তবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক। তাদের মতে, শেখার ভালো পরিবেশের দাবি তুলে শিক্ষার্থীরা একদম সঠিক কাজই করছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। নিয়মিত কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারে অনেক শিক্ষার্থী আহত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। পুলিশের বিরুদ্ধে তিন বিক্ষোভকারীকে মারধরের অভিযোগের পর বাহিনীটির পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি আছে। ফলে আন্দোলনটি দেশটির রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোডের নেতৃত্ব এই আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। দলটির নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন।
বিভি/এমএফআর













মন্তব্য করুন: