• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে ফের বড় হামলার ছক ট্রাম্পের! ক্যাম্প ডেভিডে গোপন বৈঠক

প্রকাশিত: ১৭:৪৪, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানে ফের বড় হামলার ছক ট্রাম্পের! ক্যাম্প ডেভিডে গোপন বৈঠক

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবকাশযাপন কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডে কয়েক ঘণ্টার গোপন বৈঠক করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইয়েমেনে সৌদি আরব-হুথি সংঘাত, দুই সংকটই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছেন, গোপন ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে বৈঠকে বিশেষ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এ বৈঠক নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। 

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা যখন কার্যত অচলাবস্থায় পড়েছে ঠিক তখন এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরানকে চুক্তিতে সই করতে হবে, নইলে দেশটির জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। ক্যাম্প ডেভিডে যখন গোপন বৈঠক চলছি, তখন অন্যদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরান নিয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী তা জানালে সেটি বড় খবর হয়ে যাবে। তবে পরিস্থিতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং ইরানের অবস্থা ভালো নয় বলে দাবি করেন তিনি।

সর্বশেষ ৩ অক্টোবর ট্রাম্পের বক্তব্যে সামরিক বিকল্পের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হয়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানকে নিয়ে তার একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বিষয়টি সহজ পথে সমাধান হবে, নাকি কঠিন পথে। একই সময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ জানান, ট্রাম্পের হাতে প্রয়োজনীয় সব সামরিক বিকল্প রাখতেই পেন্টাগন প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী বহর এবং অতিরিক্ত নৌ ও মেরিন বাহিনীও পাঠানো হচ্ছে। তবে এসব প্রস্তুতি সরাসরি নতুন হামলার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, নিশ্চিত করে তা বলে না। 

অন্যদিকে, ইয়েমেনেও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে। সৌদি আরব ইরানের মিত্র হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ওয়াশিংটনকে বিমান হামলায় যুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি পরিকল্পনার লক্ষ্য ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাবের ওপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণ নস্যাৎ করা। ফলে ইরান ও ইয়েমেন, দুই ফ্রন্টেই যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। 

এর আগে ২০২৫ সালের জুনেও ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে ক্যাম্প ডেভিডে একই ধরনের উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক হয়েছিল। তাই এবারও এমন বৈঠক এবং ট্রাম্পের ধারাবাহিক সামরিক হুঁশিয়ারি নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, ওয়াশিংটন কি আবারও পূর্ণমাত্রার হামলার দিকে এগোচ্ছে, নাকি শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক সমঝোতার পথই বেছে নেবে। 

বিভি/এইচজে

মন্তব্য করুন: