• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ, নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

প্রকাশিত: ২২:২৫, ৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২২:২৬, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ, নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) দিল্লি ও মুম্বাইয়ে হাজারো তরুণ ও বিরোধী দলের সমর্থক বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিরোধী নেতা রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরে। তারা ভোটার তালিকার সংশোধন বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাবে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাজধানী নয়াদিল্লিতে রবিবার সন্ধ্যার দিকে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এ সময় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।

কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আটক ব্যক্তিদের বহনকারী গাড়ি ঘিরে ফেলেন। তারা গাড়ির ওপর উঠে পড়েন এবং সড়কে শুয়ে পড়ে গাড়িগুলোর চলাচল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারী আহনা সিং অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ আমাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে গেছে। পুলিশ নির্মম আচরণ করছে।’ এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের জমায়েতে বাধা দিয়ে আসছে পুলিশ। এ সময় কয়েক ডজন মানুষকে আটক করে বাসে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার ও শনিবার আটক কয়েকজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও, তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় গণজমায়েত নিষিদ্ধসংক্রান্ত আদেশ ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের মাধ্যমে লাখো যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ফলে মোদির দল রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে।

বিরোধী নেতা রাজ ঠাকরে বলেন, ‘আমি ক্ষমতাসীন দলকে শুধু এটুকু বলতে চাই—আপনারা যেভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করছেন, তাতে আমরা ক্ষুব্ধ। কে ক্ষমতায় থাকবে আর কে বিরোধী দলে থাকবে, তা জনগণই ঠিক করবে; নির্বাচন কমিশন নয়।’

তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হলো একই ব্যক্তির একাধিক নাম, মৃত ব্যক্তি ও অযোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা। শুক্রবার কমিশন তার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, ভুলবশত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তার পদত্যাগের দাবি বা চলমান বিক্ষোভ নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে আগামী কয়েক দিনেও আরও বিক্ষোভ কর্মসূচি থাকায় আন্দোলন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতের বিরোধী দলগুলোর একটি জোট ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ দাবিতে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া ‘জেন জি ককরোচ জনতা পার্টি’ ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বড় ধরনের সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

মোদির সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের নেতৃত্বে চলমান বিক্ষোভকে গত ১২ বছরে তার সরকারের জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তরুণ-নেতৃত্বাধীন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে জুলাইয়ে জাতীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদ ছাড়তে হয়। এটি মোদির তৃতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

সূত্র: রয়টার্স

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: