• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিপাইনে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণাবিরোধী অভিযান, গ্রেফতার ২৪৪

প্রকাশিত: ২২:১১, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ফিলিপাইনে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণাবিরোধী অভিযান, গ্রেফতার ২৪৪

অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ অফশোর গেমিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানে ২৪৪ বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ।  দেশটিতে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বেশির ভাগই চীনা নাগরিক। 

ফিলিপাইনের অভিবাসন ব্যুরো শনিবার রাতে জানায়, শুক্রবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিনদানাওয়ে দুটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে এসব বিদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিবাসন ব্যুরোর বিবৃতিতে বলা হয়, একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ১১০ জন চীনা নাগরিক, দুইজন কম্বোডীয় নাগরিক ও হংকংয়ের একজন বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়।

অন্য স্থানে আরও ১৩১ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বেশির ভাগই চীনা নাগরিক। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিকও রয়েছেন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

ফিলিপাইনে ২০২৪ সালে ফিলিপাইন অফশোর গেমিং অপারেটরস (পিওজিও) নিষিদ্ধ করা হয়। দেশটির সরকারের অভিযোগ, অপরাধী চক্রগুলো মানব পাচার, অর্থপাচার, অপহরণ, প্রতারণা ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের আড়াল হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করত।

জাতিসংঘের ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শত শত হাজার মানুষকে পাচার করে অপরাধী চক্রগুলো জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র ও অন্যান্য অবৈধ প্রতিষ্ঠানে কাজ করিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার এবং কম্বোডিয়ায় প্রায় ১ লাখ মানুষ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে আটকে থাকতে পারেন। এ ছাড়া লাওস, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডেও অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা থেকে শুরু করে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সর্বশেষ অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মানব পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সম্ভাব্য অভিযোগ তদন্ত করছে ফিলিপাইন সরকার। অন্যদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন বা চাপ প্রয়োগ করে ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগসহ নানা ধরনের প্রতারণায় যুক্ত করা হয়।

ফিলিপাইনের অভিবাসনপ্রধান জোয়েল ভিয়াদো বলেন, ‘ফিলিপাইনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখব। একই সঙ্গে নিশ্চিত করব, দেশটি যেন অবৈধ কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।’

চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র জি লিংপেং এএফপিকে বলেন, তারা এ বিষয়ে ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘চীনের আইনে যেকোনো ধরনের জুয়া নিষিদ্ধ। এর মধ্যে বিদেশে গিয়ে চীনা নাগরিকদের জুয়া খেলা কিংবা জুয়া পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করাও অন্তর্ভুক্ত।’

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: