মাইক্রোসফট-টাটাসহ বড় আইটি কোম্পানির গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র
মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, ইনফোসিস ও টাটাসহ বেশ কয়েকটি বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের আওতায় কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনির মতো বড় আইটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সনদের নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ রাখার পাশাপাশি আগে জমা দেওয়া যেসব আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলোর কার্যক্রমও স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, মাইক্রোসফটের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের উচিত দেশের দক্ষ কর্মীদেরও নিয়োগ দেওয়া। তাঁর ভাষায়, ‘মাইক্রোসফটের প্রতি আমাদের বার্তা হলো—আপনারা একটি অসাধারণ মার্কিন কোম্পানি। তবে আপনাদের অসাধারণ মার্কিন কর্মীদেরও নিয়োগ দিতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং জানান, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এ কর্মসূচির আওতায় স্থগিতাদেশের মুখে পড়তে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের সনদের নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। একই সঙ্গে আগে জমা পড়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মাইক্রোসফটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক অধিকাংশ গ্রিন কার্ডের আবেদনের আগে নিয়োগদাতাকে শ্রম বিভাগের কাছ থেকে পিইআরএম (PERM) সনদ নিতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত করতে হয়, সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী কোনো মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হয়েছে।
এই সনদ স্থগিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব বিদেশি কর্মীর ভিসা বা গ্রিন কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
এদিকে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমানোর অভিযোগে হার্ভার্ড, ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ডসহ নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন জেডি ভ্যান্স।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিতো জানিয়েছেন, তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশি প্রভাব, অনিয়মিত আর্থিক সম্পর্ক কিংবা ভিসার অপব্যবহারের কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
ডি’এসপোসিতোর ভাষ্য, অর্থ সাশ্রয়ের নামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে গবেষণার তথ্য বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করলে তা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী।
যুক্তরাষ্ট্রের এ উদ্যোগের ফলে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশটির নীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: