• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

৮০ বছর পর মার্কিন বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড, সরাসরি দেখাবে পেন্টাগন

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ৯ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৭:৫৭, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
৮০ বছর পর মার্কিন বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড, সরাসরি দেখাবে পেন্টাগন

সাবেক সেনা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নাদাল হাসান

১৯৪৫ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের বিশাল ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে সাবেক সেনা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নাদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০৯ সালে এই সেনাঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে লেজার-নির্দেশিত নিশানাযুক্ত পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়েছিলেন হাসান। 

২০০৯ সালে ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করা এক বন্দুকধারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য প্রথমবারের মতো সরাসরি সম্প্রচার করবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের এমন ঘটনা হবে নজিরবিহীন।

গত সপ্তাহে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য টেলিভিশনে সম্প্রচারের জন্য সংবাদমাধ্যমগুলো চেষ্টা করেছে। তবে আদালতের বাধায় তা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আইনসম্মতভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য টেলিভিশনে সম্প্রচার বা সরাসরি সম্প্রচারের নজির অন্য কোনো দেশে রয়েছে বলে জানা যায় না।

‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ অনুষ্ঠানে হেগসেথ বলেন, ২০০৯ সালের হামলার আনুমানিক একই সময়, সপ্তাহের একই দিন এবং একই স্থানে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল খুবই সহজ একটি সিদ্ধান্ত।

ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০৯ সালে হামলাটিও বৃহস্পতিবার একই সময়ের কাছাকাছি ওই সেনাঘাঁটিতে চালানো হয়েছিল।

হেগসেথ বলেন, আমরা নিশ্চিত করবো, যাতে মানুষ এটি দেখতে পারে এবং বিষয়টি জনসমক্ষে থাকে। কারণ, মানুষকে বুঝতে হবে যে এ ধরনের কাজের গুরুতর পরিণতি রয়েছে।

হাসান মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ কোনো অনুরোধ জানিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে হেগসেথ বলেন, আমি পরোয়া করি না। ৩ ডিসেম্বর আমরা তাকে দেখতে পাবো।

২০১৩ সালের আগস্টে একটি সামরিক আদালতের বিচারক প্যানেল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার ৪৫টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। গুলি চালানোর ওই ঘটনা ঘটেছিলো আফগানিস্তানে মোতায়েন হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে। তখন হাসানের বয়স ছিল ৫৬ বছর।

গ্রেফতারের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন। এরপর থেকে তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আইন অনুযায়ী, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে দেশটির প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।

পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সুপারিশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই অনুমোদন দিয়েছেন। সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে কি না, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত