• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সকালে তিনি গণিতের শিক্ষক, বিকালে হাতে নেন অস্ত্র!

মোরশেদ আলম

প্রকাশিত: ১৭:১২, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সকালে তিনি গণিতের শিক্ষক, বিকালে হাতে নেন অস্ত্র!

সকালে স্কুলে শিক্ষার্থীদের গণিত শেখান, আর বিকেলে হাতে তুলে নেন রাইফেল। কখনো যুদ্ধের সম্মুখসারিতে, আবার কখনো সেনাদের নিরাপত্তাচৌকিতে দায়িত্ব পালন করেন। এক হাতে কলম, অন্য হাতে রাইফেল- এভাবেই চলছে ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষক আদেল আবদুল সামাদ আল-সুহাইবির জীবন। অবসরে যাওয়ার শেষ বছরেও কেন তাকে ফিরতে হচ্ছে সংঘাতের ময়দানে?

ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের আল-মিসরাখ এলাকার একটি স্কুলে ১৯৯১ সাল থেকে শিক্ষকতা করছেন আল-সুহাইবি। চার ছেলে ও তিন মেয়ের জনক তিনি। এ বছরই তার কর্মজীবন শেষ হওয়ার কথা। তবে শ্রেণিকক্ষের বাইরেও গত সেপ্টেম্বর থেকে আল-মাফার এলাকায় নিরাপত্তাচৌকিতে বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

হাতে রাইফেল নিয়ে যানবাহন থামান, চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তল্লাশি শেষে চলাচলের অনুমতি দেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করাকেই এখন নিজের কর্তব্য হিসেবে দেখছেন তিনি।

নিরাপত্তাচৌকিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আল-মাফার জেলার আল-কাধা এলাকায় সরকারি বাহিনীর যোদ্ধাদের সঙ্গেও যোগ দিয়েছেন আল-সুহাইবি। তার ভাষ্য, হুতি বিদ্রোহীদের হামলার খবর শুনেই এলাকার নিরাপত্তায় এগিয়ে আসেন তিনি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ সমাবেশের ঘোষণা আসার আগেই স্থানীয় প্রতিরোধের আহ্বানে সাড়া দেন।

আল-সুহাইবি জানান, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে আল-মিসরাখ এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের সময় দুবার আহত হয়েছিলেন তিনি। এরপরও সেনাদের সহায়তা করতে আবারও মাঠে ফিরেছেন। এলাকাটি তাদের নিজেদের- তাই পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, তা শত্রুর হাতে ছেড়ে দিতে চান না তিনি।

২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পরও ইয়েমেনে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষের বাহিনীগুলোর সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। লোহিত সাগর উপকূল ও কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালি ঘিরেও বেড়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ।

আল-সুহাইবির আশা, সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে। তবে তার সবচেয়ে বড় ভরসা তাইজের স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষকতার শেষ বছরে দাঁড়িয়ে তার জীবন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের এক কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরছে- যেখানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার মানুষটিকেও এলাকার নিরাপত্তার জন্য হাতে তুলে নিতে হচ্ছে অস্ত্র।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত