১০০ বছর পর প্রদর্শনীর অপেক্ষায় চুরি হওয়া সেই গোলাপি হীরা!
প্রায় ১০০ বছর আগে চুরি হয়ে যাওয়া দুর্লভ গোলাপি হীরা ‘গ্র্যান্ড কঁদে’ আবারও প্রদর্শনীতে ফিরছে। ফ্রান্সের শাঁতো দ্য শঁতিয়ি দুর্গের কঁদে জাদুঘরে হীরাটি প্রদর্শন করা হবে আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৯২৬ সালে চুরির পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উদ্ধার হয়েছিল নয় ক্যারেটের এই মূল্যবান রত্ন। আপেলের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হীরাটি এক ক্ষুধার্ত পরিচারিকার কামড়ে ধরা পড়েছিল চোরদের আস্তানায়।
নাশপাতির আকৃতির ‘গ্র্যান্ড কঁদে’ হীরাটি ১৯২৬ সালের অক্টোবরে রাতে ফ্রান্সের শাঁতো দ্য শঁতিয়ি দুর্গ থেকে চুরি করা হয়। ফরাসি বিপ্লবের পরও টিকে থাকা রাজকীয় অলংকারগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
চুরির পর হীরাটি একটি আপেলের ভেতর ফাঁপা জায়গায় লুকিয়ে রাখে চোরেরা। কয়েক সপ্তাহ পর যে হোটেলে তারা অবস্থান করছিল, সেখানে এক ক্ষুধার্ত পরিচারিকা আপেলটিতে কামড় দিলে হীরাটি বেরিয়ে আসে। এভাবেই উদ্ধার হয় মূল্যবান রত্নটি। এবার দীর্ঘ বিরতির পর আবারও দর্শনার্থীদের সামনে আসছে হীরাটি। শাঁতো দ্য শঁতিয়ির কঁদে জাদুঘরে প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত।
জাদুঘরের পরিচালক ম্যাথিউ দেলদিক বলেন, আপেলের ভেতর হীরা লুকিয়ে রাখার ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তবে সে সময়ের সংবাদপত্রগুলোতে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনায় হীরাটির প্রদর্শনী নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১২ মাসে ইউরোপের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্যারিসের লুভর জাদুঘর থেকে দিনের আলোয় গয়না চুরির ঘটনাও রয়েছে।
হীরাটির বিমার মূল্য কত, সে বিষয়ে সিএনএনকে কিছু জানাতে রাজি হননি জাদুঘর পরিচালক দেলদিক। তবে তিনি জানান, হীরাটির বৈশিষ্ট্য সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে ব্যাপক একাডেমিক গবেষণা করা হয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গবেষণার ফলাফলের পাশাপাশি হীরাটির ইতিহাস ও চুরির ঘটনা সম্পর্কিত আগে কখনো প্রকাশ না করা আর্কাইভের নথিপত্রও প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে।
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট গোলাপি হীরা অত্যন্ত বিরল। এ ধরনের হীরার দাম প্রায়ই কয়েক কোটি ডলারে পৌঁছায়। নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি গোলাপি হীরার মূল্য ছিল ৭ কোটি ১ লাখ ২০ হাজার ডলার। ২০১৭ সালে হীরাটি এই দামে বিক্রি হয়েছিল বলে জানিয়েছে নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথবি’স।
তবে ‘গ্র্যান্ড কঁদে’ হীরাটির সঠিক উৎপত্তি এখনো রহস্যাবৃত। শাঁতো দ্য শঁতিয়ির তথ্য অনুযায়ী, ১৭৪০ সালে কঁদে রাজপুত্র লুই অঁরি দ্য বুরবোঁর মৃত্যুর পর তাঁর সম্পদের তালিকায় প্রথমবারের মতো হীরাটির উল্লেখ পাওয়া যায়।
পরবর্তী সময়ে হীরাটি ফ্রান্সের রাজা লুই ফিলিপ প্রথমের স্ত্রী, বুরবোঁ-সিসিলির রানি মারি-আমেলির সংগ্রহে আসে। পরে এটি তাঁদের ছেলে অঁরি দ্য অর্লেয়াঁ, ডিউক অব ওমালের সংগ্রহের অংশ হয়।
ডিউক অব ওমালে হীরাটি ইনস্টিটিউ দ্য ফ্রঁসকে দান করে যান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শাঁতো দ্য শঁতিয়ির মালিক। প্যারিস থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই দুর্গে সংরক্ষিত হাজার হাজার শিল্পকর্ম ও পাণ্ডুলিপি কঁদে জাদুঘরের সংগ্রহের অংশ।
সূত্র: বিবিসি
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: