নৌযান চার্টার নীতিমালা: বাড়বে রাজস্ব, সুরক্ষিত হবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ
পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি ও আধুনিক নৌপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নৌযান চার্টার প্রদানের বিদ্যমান নীতিমালা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে নৌযান চার্টার প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি সংস্থার রাজস্ব বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে ‘বিআইডব্লিউটিসি নৌযান চার্টার নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ডেনি উপস্থিত থেকে প্রস্তাবিত নীতিমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারা পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
সভায় কর্মকর্তারা বলেন, দেশের নৌপরিবহন খাতে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত চাহিদা এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে নৌযান চার্টার ব্যবস্থাপনাকেও আধুনিক ও কার্যকর করা প্রয়োজন।
এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করে নতুন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় নৌযান চার্টার প্রদানের প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
একই সঙ্গে চার্টার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসির রাজস্ব আয় বাড়ানো, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারি নৌযানের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিআইডব্লিউটিসির নৌযানগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। তাই এসব নৌযান চার্টারে দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্যিক বিষয় বিবেচনা করলেই হবে না; জাতীয় স্বার্থ, সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা এবং নৌযানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন নীতিমালায় এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ডেনি বলেন, বিআইডব্লিউটিসির নৌযানগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এসব নৌযান চার্টার দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও সংস্থার আর্থিক সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একই সঙ্গে অংশীজনদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নৌযান চার্টারের ক্ষেত্রে এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে চার্টার গ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত ও সহজভাবে দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
সভায় কর্মকর্তারা বলেন, নৌযানের অব্যবহৃত সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে তা বিআইডব্লিউটিসির আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ জন্য চার্টার প্রদানের ক্ষেত্রে নীতিমালা সুস্পষ্ট ও সময়োপযোগী হওয়া প্রয়োজন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে নৌযান চার্টারের শর্ত, প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বগুলো আরও সুস্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌযান চার্টার প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চার্টার প্রক্রিয়া যত বেশি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে, সরকারি সম্পদের ব্যবহার তত বেশি কার্যকর হবে এবং অংশীজনদের আস্থাও বাড়বে।
এ ছাড়া গ্রাহকদের চাহিদা ও নৌপরিবহন খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবা প্রদানের বিষয়টি নতুন নীতিমালায় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এতে একদিকে চার্টার গ্রহীতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হবে, অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্যিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের মতামত ও পরামর্শ দেন। এসব মতামত পর্যালোচনা করে খসড়াটি প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ‘বিআইডব্লিউটিসি নৌযান চার্টার নীতিমালা ২০২৬’ দ্রুত চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বিআইডব্লিউটিসির নৌযান চার্টার ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: