বোয়িং কেনা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশের চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনা করেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এ চুক্তির পেছনে কোনো ‘গোপন এজেন্ডা’ নেই। একই সঙ্গে কোনো কিছু না জেনেই বিরোধীদল প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে সমালোচনা করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর ও ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিশ্ব কূটনীতিতে বাংলাদেশের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় বিভিন্ন দেশ সমর্থন জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। অধিবেশনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি ও বৈশ্বিক সহযোগিতাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। বৈশ্বিক সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পাশাপাশি বিশ্ব শান্তির বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দাবি, জাতিসংঘে বাংলাদেশের এবারের অংশগ্রহণ সফল হয়েছে। নিউইয়র্ক সফরের চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণ নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সফরের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না জেনেই বিরোধীদল সমালোচনা করছে।
বোয়িং কেনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ ও বিমান চলাচলের চাহিদা বিবেচনা করেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই। আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ ও বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই বহর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, একই পরিবারের তিন ব্যক্তির বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের মধ্য দিয়ে একটি অনন্য ইতিহাস তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: