• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

প্রকাশিত: ১৯:৪২, ১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ উল্লেখ করেছেন, তিনি সম্পূর্ণ ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ২টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফেরদৌসী আহমেদ। পরে তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ লিখেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি ফেরদৌসী আহমেদ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে, আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে পদত্যাগ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।’

এ ছাড়া পদত্যাগপত্রে আর কোনো বিষয় উল্লেখ করেননি ফেরদৌসী আহমেদ।

বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। সংবিধান অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে দলগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এবার বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয় এবং ৩ মে তারা শপথ নেন। ফলে প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তাঁকে জানানো হয়।

এর আগে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর করেন। পরে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নাম আলোচনায় আসে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ফেরদৌসী আহমেদ ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। ওই সময় সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে যে আবেদন করা হয়েছিল, তাতে সভাপতি হিসেবে ফেরদৌসী আহমেদের স্বাক্ষর ছিল।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত