মিষ্টির শূন্য আসন কী বিরোধী দলের পাওয়ার সুযোগ আছে?
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের মাধ্যমে শূন্য হয়েছে জাতীয় সংসদের মহিলা আসন-২৩। বৃহস্পতিবার তার পদত্যাগের পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। একই সঙ্গে শূন্য আসন পূরণে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তবে এই শূন্য আসনে বিরোধী দল বা অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হলে সেটি কীভাবে পূরণ হবে, তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ধারা।
আইনের ওই ধারায় বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হলে, শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে যে রাজনৈতিক দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি আগে বণ্টন করা হয়েছিল, উপনির্বাচনে সেই রাজনৈতিক দল বা জোটের মনোনীত প্রার্থী বা প্রার্থীদের মধ্য থেকেই আসনটি পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির আসনটি যেহেতু বিএনপির অনুকূলে বণ্টিত হয়েছিল, তাই আইন অনুযায়ী এই আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর মধ্য থেকেই নতুন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। অন্য কোনো দল বা জোট এই আসনের জন্য নিজেদের প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে না।
যেভাবে হবে নির্বাচন
আইনের ৯ ধারায় সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের অনুকূলে বণ্টিত আসনে প্রার্থী সেই দল বা জোট কর্তৃক মনোনীত হতে হবে। প্রার্থীর নাম ওই দল বা জোটের একজন ভোটার প্রস্তাব এবং অন্য একজন ভোটার সমর্থন করবেন। আর একটি মাত্র শূন্য আসন পূরণের উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা জোটের ভোটাররাই ভোট দেবেন। আইন অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে বৈধ ব্যালটের ভোটমান হবে এক এবং নির্ধারিত কোটায় প্রয়োজনীয় ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হবেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একজন হলে তাকেও নির্বাচিত ঘোষণা করার বিধান রয়েছে।
সংবিধানের ৬৫(৩) অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী সদস্যরা সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের মাধ্যমে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটে (STV) নির্বাচিত হন। তবে মিষ্টির আসনটি যেহেতু এরইমধ্যে বিএনপির অনুকূলে বণ্টিত একটি একক শূন্য আসন, তাই উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০০৪ সালের আইনের ২৭ ও ২২ ধারার বিশেষ প্রক্রিয়াই প্রযোজ্য হবে।
৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন
আইন অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে না গেলে কোনো সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হবে। ফলে নির্বাচন কমিশনকে এখন আইন অনুযায়ী উপনির্বাচনের তফসিলসহ পরবর্তী কার্যক্রম নিতে হবে। সুতরাং, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া মহিলা আসন-২৩-এ মূল বিষয়টি হলো—আসনটি পুনর্বণ্টন হবে না; বরং যে দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি প্রথমে বণ্টিত হয়েছিল, সেই দল বা জোটের প্রার্থীর মধ্য থেকেই উপনির্বাচনের মাধ্যমে আসনটি পূরণ হবে।
বিভি/কেএস/টিটি













মন্তব্য করুন: