পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের জন্য এলো ৫টি আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে যুক্ত হতে যাচ্ছে ৫টি অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০ ঘটিকায় এসব আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে ‘ফ্যান ঝৌ -6’ নামের একটি জাহাজ পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল জেটিতে পৌঁছেছে। পায়রা বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও দক্ষ করার লক্ষ্যেই এসব যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। দীর্ঘ ২ বছর বিরতির পর আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জামবাহী জাহাজের আগমনের মধ্য দিয়ে বন্দরের জেটিতে সরাসরি জাহাজ বার্থিং কার্যক্রমও পুনরায় শুরু হয়েছে।
এর আগে পায়রা বন্দরের PPFT জেটিতে গত ১৫ মে ২০২৪ তারিখে ৫০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে 'MV ZEIN ' একই বছরের ১ লা নভেম্বর ২০২৪ তারিখে ৪৮৫১১ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে MV DA HONG -16 নামের দুটি মাদার ভেসেল বার্থিং করে কার্গো খালাস করেছিল।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম টার্মিনালের জন্য আনা ৫টি আধুনিক যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে দুটি STS (Ship-to-Shore/Quay Gantry Crane), যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৮০ টন। এছাড়া রয়েছে দুটি RTG (Rubber-Tyred Gantry Crane), প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৪০ টন এবং একটি MHC (Mobile Harbour Crane), যার ধারণক্ষমতা ৮০ টন। এসব যন্ত্রপাতি নির্মাণ করেছে NPHMC (Nanjing Port & Harbor Machinery Company) ও XCMG (Xuzhou Construction Machinery Group)।
পায়রা বন্দর ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান জানান,নতুন STS ক্রেনের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে কনটেইনার লোড-আনলোড করা হবে। RTG ক্রেন দিয়ে ট্রেইলার থেকে কনটেইনার ওঠানামা এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজ করা হবে। অন্যদিকে MHC-এর মাধ্যমে বাল্ক কার্গো ও কনটেইনার ডিসচার্জিং ও শিপিং কার্যক্রম আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আধুনিক এসব সরঞ্জাম যুক্ত হওয়ায় কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমবে এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে কম সময়ে জাহাজ থেকে কার্গো ও কনটেইনার খালাস করা সম্ভব হবে।
পায়রা বন্দরের হার্ভার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানান ১৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ মিটার গভীরতা নিয়ে এ জাহাজটি ১৮ সেপ্টেম্বর এসকল ইকুইপমেন্ট নিয়ে চায়নার পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। এই সকল ইকুইপমেন্টের মাধ্যমে আমাদের যে কার্গো অপারেশন সেটা অনেকাংশই বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো গেলে অধিক ড্রাফটের বড় মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের জেটিতে আসতে পারবে। এতে বৃহৎ পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পায়রা বন্দরের অবদান আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল সৈয়দ সাইফ উল ইসলাম জানান, অত্যাধুনিক আধুনিকই পাঁচটি কার্গো ইকুপমেন্ট এর মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে আমরা যে পূর্ণ সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি সেটার পূর্ণতা দিল। ইতিমধ্য গাড়ি আমদানির জন্য যে ডেডিকেটেড ইয়ার্ড শেড সেটা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়েছে। একই সাথে ক্রেনগুলো আসার মাধ্যমে ৬৫০ মিটার মাল্টিপারপাস বার্থ সেটাও পূর্ণতা পেল।নাব্যতাকে মেনটেইন করতে পারলেই পূর্ণসক্ষমতায় বন্দরকে চালু করতে পারবো । প্রযুক্তিনির্ভর কার্গো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পায়রা বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে এর সক্ষমতা বিকাশের পথও সুগম হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার মেট্রিকটন পাথর নিয়ে এমভি জেইন নামের একটি এবং ওই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার মেট্রিক টন পাথর নিয়ে এমভি ডা হং-১৬ নামের অপর একটি মাদারভ্যাসেল সরাসরি বন্দরের প্রথম টার্মিনালে বার্থিং করে পন্য খালাস করেছিলো।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: