• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মৌলবাদকে মোকাবেলায় সংস্কৃতিকে কাজে লাগাতে হবে: প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম

রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ০০:০১, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মৌলবাদকে মোকাবেলায় সংস্কৃতিকে কাজে লাগাতে হবে: প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম

বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের ভাষার প্রতি অনুরাগ ও মনোযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজবাড়ীতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ১০ম বাংলা উৎসব।

উৎসবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম থেকে দশম শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও ব্যাকরণভিত্তিক এ আয়োজনে রয়েছে দেয়ালপত্রিকা তৈরি, অভিধান থেকে শব্দ খোঁজা, চিত্রাঙ্কন, কুইজ, আবৃত্তি ও ছড়া লেখাসহ নানা প্রতিযোগিতা। এ ছাড়া উৎসবে আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির উদ্যোগে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

এর আগে উৎসব প্রাঙ্গণ থেকে প্রতিযোগী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি ও সুধীজনদের অংশগ্রহণে বর্ণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উৎসব প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

পরে রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. ইকবাল হোসেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এন এ এম মোমেনুজ্জামান, ক্রীড়াবিদ মঞ্জুরুল আলম দুলাল ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিম সাফি। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিকে ক্রেস্ট ও পেইন্টিং উপহার দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, “চারদিকে মৌলবাদের আস্ফালন দেখতে পাচ্ছি। এটি মোকাবিলায় সাংস্কৃতিক মাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য সংস্কৃতির প্রতিটি অঙ্গকে সক্রিয় করে তোলা প্রয়োজন। সেটা সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, গান কিংবা চিত্রাঙ্কন—যা-ই হোক না কেন।”

তিনি বলেন, “সংস্কৃতির ব্যাপ্তি অনেক বড়। জীবনের সর্বক্ষেত্রেই সংস্কৃতি রয়েছে। আমাদের ধারণা, সংস্কৃতি মানে শুধু গান-বাজনা। কিন্তু সংস্কৃতি বলতে আমাদের জীবনযাপন, আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি—সবকিছুকেই বোঝায়। সুতরাং সংস্কৃতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।”

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন। অতীতে ভয়াবহভাবে সংস্কৃতিকে রাজনৈতিকীকরণের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাঁরা সংস্কৃতিকে দেশের ঐতিহ্য ও শিল্প হিসেবে বিবেচনা করেন। তাই সংস্কৃতির নিজস্বতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সব সংস্কৃতিমনা মানুষের সহযোগিতা জরুরি।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত