• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সফল হবেন কি ব্যারিস্টার কাজল

প্রকাশিত: ১৩:৩৮, ২৬ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৩:৪৪, ২৬ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সফল হবেন কি ব্যারিস্টার কাজল

আদালত ও রাজনীতি দুই মহলেই জনপ্রিয় ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল

আদালত অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে সরকারের একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করি।

ব্যারিস্টার কাজল এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট যোগ্য, দক্ষ ও সাবলীল বক্তা। ব্যক্তিগতভাবে তিনি সজ্জন ও পরোপকারী—এমনটাই তার সম্পর্কে সাধারণ ধারণা। দলীয় রাজনীতিতেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। বর্তমান সময়ে যখন অনেক সুযোগসন্ধানী ও তথাকথিত ‘হাইব্রিড’ নেতার উত্থান দেখা যাচ্ছে, তখন তিনি সেসব থেকে নিজেকে দূরে রেখে দলের প্রয়োজনে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। বলা যায়, তার মেধা ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়নই করেছে বিএনপি।

নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির আইন সহায়তা সেলের প্রধান হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টে দলের প্রায় অর্ধশতাধিক প্রার্থীর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বে থাকা দলের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অনেক প্রার্থী জটিলতা কাটিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে টানা তিনবার সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বড় প্রমাণ। তিনি এই সমিতির সর্বশেষ নির্বাচিত সম্পাদকও। এছাড়া সারাদেশের আইনজীবীদের ভোটে বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি ও এমএলএম সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আবারও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স শেষ করে লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি সনদ লাভ করেন।

১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে তার পেশাজীবন শুরু হয়। এক বছর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং ২০০৮ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০২৩ সালে তিনি সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে স্বীকৃতি পান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আইনবিষয়ক সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বার অ্যাসোসিয়েশন, কমনওয়েলথ ল’ অ্যাসোসিয়েশন এবং ল’ এশিয়ার সদস্য।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বকালীন (২০০৩–২০০৬) সময়ে তিনি বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডনে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকতাতেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের বিপক্ষে, অর্থাৎ ইউনূসের পক্ষে তিনি শুনানিতে অংশ নেন—যা আইনজীবী মহলে প্রশংসিত হয়।

সব মিলিয়ে, আইনজীবীদের কাছে তিনি একজন জনপ্রিয় ও আস্থাভাজন নেতা। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি সফল হবেন—এমন প্রত্যাশাই সবার। দায়িত্ব গ্রহণের পর মিডিয়ার সামনে তার প্রথম সাক্ষাৎকারও ছিল আত্মবিশ্বাসী ও প্রাঞ্জল, যা ভবিষ্যৎ কাজের প্রতি আশাবাদ আরও জোরদার করে।

 

(বাংলাভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলাভিশন নিবে না।)

মন্তব্য করুন: