• বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ১৩ কার্তিক ১৪২৮

BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪

মগবাজার বিষ্ফোরণ: আমার ব্যক্তিগত অভিমত

সৈয়দ শাফকাত উল মুছভী

প্রকাশিত: ১৭:৩৩, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ১৭:৩৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফন্ট সাইজ
মগবাজার বিষ্ফোরণ: আমার ব্যক্তিগত অভিমত

মগবাজারের ভয়াবহ বিষ্ফোরণ আমার মনে হয় ভূ-গর্ভস্থ গ্যাসলাইন বা স্যুয়ারেজ লাইনে যে কোনো ত্রুটিজনিত কারণে হয়েছে। ধারণা করি, সেখানে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস জমে ছিলো। সরকারি কোনো কাজের অথবা পুরনো ত্রুটিপূর্ণ গ্যাসলাইনের লিকেজ পয়েন্ট থেকে তা হতে পারে। যে কোনো কারণেই হোক না কেন, তা কোনোভাবে ইগ্নাইট করেছে। এর ফলে ভূ-গর্ভস্থে থাকা বিপুল পরিমাণ গ্যাস একসংগে বার্ন হয়ে ভায়ানক চাপ তৈরি করেছে এবং দুর্ভাগ্যবশতঃ সেই চাপের এক্সিট পয়েন্ট ছিলো শর্মাহাউস এবং বেংগল মিট-এর দোকান, তথা ওই ভবনের নিচে। 

যারা ভাবছেন- এসি বা গ্যাস সিলিন্ডার বা ট্রান্সফরমার বিষ্ফোরণে এমনটি হয়েছে; একবার ভাবুন তো বিষ্ফোরণটির ক্ষমতার কথা। একটি সিলিন্ডার বা কম্প্রেসর তখনই ফাটে, যখন ধারণক্ষমতার বাইরে তার ভেতরে চাপ তৈরি হয়। এতো বড় বিষ্ফোরণ হবার জন্য ওই নগণ্য সিলিন্ডারে বা ট্রান্সফরমারে এতো শক্তি উৎপন্ন হবার অনেক আগেই ফেটে যেতো বা যাওয়ার কথা। আমরা কি পারবো একটি বেলুনকে তার ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করে ফাটাতে? কখনোই না। 

আবার বিষ্ফোরণের সংগে তেমন অগ্নিকাণ্ডও হয়নি। সুতরাং এটিই ইংগিত করছে বা বুঝা যাচ্ছে, ভূ-গর্ভে জমে থাকা বিশাল আকারের কম্প্রেসড চাপ বের হয়ে আসার জন্য বিষ্ফোরণ ঘটেছে এবং সেটি একমাত্র গ্যাস বিষ্ফোরণের মাধ্যমেই সম্ভব। এর ফলেই ভয়ংকর শকওয়েভ হয়েছে। আশেপাশের নিকটবর্তী কিছু ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি ভবনের সব কাচ ভেঙে পড়েছে। আমার বাসা বিস্ফোরণ-স্থল থেকে কিছুটা দূরে, দিলু রোডের কাছাকাছি একটি বহুতল ভবনে। বিস্ফোরণে আমাদের ভবনটিও রীতিমতো ঝন ঝন শব্দে কেঁপে উঠেছিলো। তখোনো কিছুই বুঝিনি, কী ঘটেছে। তবে খুব অবাক হয়েছি। কারণ ভূমিকম্পও সাধারণত এমন কাঁপন তৈরি করে না। এছাড়া এই ধরনের কাঁপুনি আগে কখনো অনুভব করিনি। আচমকা ঘরের সব দরজা-জানালা সজোরে ঝনঝন করে কেঁপে উঠলো। আরেকটু দূরে বাংলামটরের কাছে ইস্টার্ন টাওয়ারের অনেকেই এই কম্পন অনুভব করেছেন। আমার রিলেটিভ মগবাজার কাজী অফিস লেনে থাকেন, সেটাও বেশ দূরে, তাঁদের বাসাও ঝনঝন শব্দে কেঁপে উঠেছে। আমার বিশ্বাস, এই মাত্রার কম্পন কখনও একটি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার কিংবা এসি'র কম্প্রেসর বা ট্রান্সফরমারের বিষ্ফোরণ থেকে হতেই পারে না।

উল্লেখ্য, মগবাজার মোড় থেকে ওয়্যারলেস হয়ে আরো সামনে ফুটপাত সংলগ্ন রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি চলছে অনেকদিন ধরে। আমি জানি না, ঠিক কিসের পাইপলাইনের কাজ হচ্ছে সেখানে। আরেকটি কথা, আমার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারি সেদিনই দুপুরে বেংগল মিটের দোকানে গিয়েছিলো মাংস কিনতে। ফিরে এসে সে আমাকে জানিয়েছিলো, হেঁটে আসা-যাওয়ার পথে সে গ্যাসের গন্ধ পেয়েছে।

অবশ্য আমি অবাক হই না, কেন কর্তৃপক্ষ এখনও কারণ খুঁজে পাচ্ছে না। 
কারণ খুঁজে না পাওয়ার হয়তো কোনো সিক্রেট কারণ থাকতে পারে। 
হতাহত ও মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হবে বলেই আমার ধারণা, যদিও তা কাম্য নয়। তবে এটি নিয়েও কেমন যেন লুকোচুরি হচ্ছে। 

আমরা কতোটা অ-নিরাপদ, ভেবে কূল পাই না।

** লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত লেখাটি বাংলাভিশন ডিজিটাল-এর বানান রীতিতে সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হলো।

বিভি/এসডি

মন্তব্য করুন: