দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে: ইশরাক হোসেন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, দুর্গাপূজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সার্বক্ষণিক তৎপর ও সজাগ থাকবে। পূজামণ্ডপ নির্মাণের সময় থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর ওয়ারীতে ঢাকা-৬ আসনের কার্যালয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, কোতোয়ালি আংশিক ও সূত্রাপুর আংশিক এলাকার আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে আপনাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদেরই প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠিয়েছেন এবং সার্বিকভাবে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। এটা আমি চিরকাল মনে রাখব। আপনাদের এবং আপনাদের সম্প্রদায়ের জন্য আমি যতদিন জীবিত রয়েছি, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার করণীয় সবকিছু করে যাব।’
ইশরাক বলেন, ঢাকা-৬ আসনে সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ রয়েছে। সূত্রাপুরে ২৫টি, কোতোয়ালীর অংশে ২২টি, ওয়ারীতে ১৯টি এবং গেন্ডারিয়ায় ১৬টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। সে অনুযায়ী একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর ওপর সর্বোচ্চ দায়িত্ব রয়েছে এবং তিনি সেই দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারে রয়েছি। এটা আমাদের দায়িত্ব যে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে নিজ নিজ ধর্ম সুশৃঙ্খলভাবে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে উদযাপন করতে পারে, রাষ্ট্র সেটি নিশ্চিত করবে।’
পূজামণ্ডপের আশপাশের রাস্তার বিষয়ে ইশরাক বলেন, পুরান ঢাকার অনেক রাস্তা মেরামতের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পূজার আগে যেসব রাস্তা সংস্কার বা মেরামত করা প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে থানা ও ওয়ার্ড নেতাদের মাধ্যমে তাঁকে জানালে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে অন্তত ব্যবহারযোগ্য করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি এলাকায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বসে কয়েক দিনের জন্য পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে আলাদা ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ইশরাক বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবার নির্বাচিত সরকারের অধীনে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে কেউ যাতে ফায়দা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে নাগরিকদের সকলের সমান মর্যাদা, সমান অধিকারের তত্ত্বে বিশ্বাস করি। আপনাদের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, শুধু বিঘ্নিত না হওয়া নয়, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সহযোগিতা করতে পারি—সে বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক সংগঠন এবং অঙ্গসংগঠন সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে।’
প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দেওয়ার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, পূজামণ্ডপ নির্মাণের সময় থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত পুরো সময়ে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার পরিবেশ বজায় রাখতে তাঁরা সজাগ থাকবেন।
পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের বিশ্রাম ও খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য পূজা কমিটিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
ইশরাক বলেন, রাজনৈতিকভাবে পরাজিত কোনো শক্তি বিশৃঙ্খলা, গুজব বা মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের কোনো সুযোগ যাতে কেউ নিতে না পারে, সে জন্য পূজা কমিটিগুলোকে তাঁদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের কার্যক্রম মনিটর ও নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটা একটা ধর্মীয় উৎসব। এটাকে যাতে কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কেউ পরিণত করতে না পারে, সে জন্য আপনাদের কাছে আমার বিনীতভাবে অনুরোধ থাকবে।’
বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে ইশরাক বলেন, পূজার সময় পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ অফিসগুলোতে তিনি কথা বলবেন।
সরকারি বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবছর পূজার সময় সরকারি বরাদ্দ থাকে। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই বরাদ্দ বাড়িয়েছেন। সরকারের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইশরাক বলেন, ‘এই দেশটি আমাদের সকলের। এটা কোনো এক ব্যক্তির নয়, এটা কোনো এক ধর্মের নয়। এই দেশের মালিক আমরা সকলেই, আমরা সকলেই রাষ্ট্রের নাগরিক। সেই অনুযায়ী আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাব।’
পূজা কমিটির কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা থানা বা ওয়ার্ড বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে তাঁকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: