• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

শিকারে খানের চেয়ে খানমরা কি কম!

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ২ অক্টোবর ২০২২

আপডেট: ২০:০৭, ২ অক্টোবর ২০২২

ফন্ট সাইজ
শিকারে খানের চেয়ে খানমরা কি কম!

সংগৃহীত ছবি

শাকিব খান নামের হিরোরূপী ভিলেনের কাণ্ডকীর্তি নিয়ে যেন পূরো জাতি! যদিও এ ধরনের ঘটনাকে কারো ব্যক্তিগত দুস্কর্ম ভাবতে স্বস্তি আমাদের অনেকের। কে কাকে বিয়ে করলো, কাকে ছাড়লো, কার কোলো বাচ্চা এলো? কেন এসবে উঁকি দেবে সাংবাদিকরা? শোবিজ কেনো, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, নিম্নভিত্তের বস্তিতেও হরহামেশা সঙ্গী বদল হয়। এসব নিয়ে কী কোনো ঘটনার মধ্যে পড়ে? ওইসব নারী-পুরুষে জানালা ফাঁক করে কি দেখা হয়?


নারী উপাদান যোগ করলে নিউজ ভালো খায় বলেও একটা কথা রয়েছে। দেশের সাংবাদিকতা নিউজ আইডিয়ার ক্ষেত্রে সক্ষমতা হারাচ্ছে বলে অভিযোগও আছে। এসব অভিযোগ ও প্রশ্ন অযৌক্তিক নয়। তবে, এর বিপরীতেও কথা থাকে। শাকিব খান বা কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী একেবারে ব্যক্তিগত নন। তারা ব্যক্তিগতের সীমানা পেরিয়ে দেশের সম্পদ। বহুজনের আইকন, আইডল, প্রিয়জন। তাদের কাজকর্মের ফল-কুফল একক বা একান্ত পারিবারিক সীমানায় থাকে না। এর প্রভাব পড়ে হাজার-হাজার মানুষের উপরও। বুবলি-শাকিব বিষয়ক লেখার তাগিদটা এসেছে এ কারণেই। 

অপরাধমূলক কাজ না হলে কারো ঘর-সংসার, পরিবার, সঙ্গী বদল অবশ্যই নিউজ আইটেম হওয়া উচিৎ নয়। এটি তাত্বিক কথা। বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। শাকিব খানের ঘটনা আরো ভিন্নতায় ভরপুর। একবার নয়, বারবার কাণ্ড ঘটিয়ে চলছেন কতিথ সুপার স্টার। কিন্তু দমেন না তিনি। প্যাডেলে ব্রেকও দেন না। আবার জীবন-যৌবনের মোহে কেউ তাকে নাও করে না। তার পানিপ্রার্থীর অভাব হয় না। রসিকতা করে বলা হয়, কেউ তাকে ফেরান না। 
‘কেউ ফিরে না খালি হাতে শাকিবেরই দরবারে’- এমন রসকথাও আছে তাকে নিয়ে। এর পরিণামে ক’দিন পর পর রাত্রী, অপু, বুবলিরা সন্তান দেন, আর ওই সন্তানদের বাবা খোঁজার দায়িত্ব পড়ে সাংবাদিকদের কাঁধে। তা এড়ানোর সুযোগ নেই সাংবাদিকদের। বিশেষ করে বিনোদন সাংবাদিকদের। মানবিকতার প্রশ্নে অনেকের মতো এ সাংবাদিকদেরও চোখ বার বার স্থির হয় নিষ্পাপ শিশুর দিকে। ঘর অস্বীকার বা ঘর ভাঙায় কখনও বাবা, কখনও মায়ের অভাব নিয়ে বড় হতে হয় এই সন্তানদের। 

এখানে খানের চেয়ে খানমদেরও দায় কমনয়

শাকিবের কাণ্ড আরো আপত্তিকর। বিয়ে চেপে যান। জন্মদানের পর সন্তানও লুকিয়ে রাখেন। চাপে পড়লে একটা সময় সিনেম্যাটিকভাবে পিতৃত্বের স্বীকৃতি দেন। নমুনা কিছুটা ফেরাউন আমলের মতো। ওই সময় পুত্র সন্তান হলে লুকিয়ে রাখা হতো শাসকের ক্রোধ থেকে বাঁচাতে। ঘটনার অনিবার্যতায় প্রশ্ন জেগেছে, শাকিবের স্বীকৃতির বাইরে কোথাও তার আরো সন্তান আছে কিনানি? অপুর ঘরে জন্ম নেয়া সন্তান জয় বা বুবলীর ঘরের বীর ছাড়াও শাকিব খানের প্রথম সন্তান রাহুল খান স্বীকৃতির বাইরে বলে তথ্য প্রচার হয়েছে নতুন করে। ২০০৮-৯ সালের দিকে বিনোদন সংবাদে চিত্রনায়িকা রাত্রির সাথে শাকিব খানের একটি বিয়ের ছবি ছাপা হয়। সেই ঘরে জন্ম নেয় রাহুল খান। তাই প্রশ্ন উঠেছে জয় এবং বীর স্বীকৃতি পেলে রাহুল কেন বঞ্চিত? কেউ কেউ নাকি রাহুলকে অনেকদিন আগে এফডিসির পাশের এক গ্যারেজে মোটর মেকানিকের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে দেখেছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হতে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী রিপোর্ট করতে পারেন। এতে আরেকটি বাচ্চা পিতৃত্বের স্বীকৃতি পাবে। 

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিয়ে হয় ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিলে। আর তাদের সন্তান আব্রাম খান জয়ের জন্ম হয় ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের একটি হাসপাতালে। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২০১৭ সালে। ৯ বছর পর তাদের বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি দেশের মানুষ জানতে পারে। বুবলীর বেলায়ও প্রায় একই কাণ্ড। বুবলী ছেলে সন্তানের মা হয়েছেন ২০২০ সালের ২১ মার্চ। তার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড জ্যুইশ মেডিক্যাল হাসপাতালে। নাম রাখা হয় শেহজাদ খান বীর। সেটিও শাকিব আড়াল করে গেছেন আড়াই বছরের বেশি সময়। এরপরও তো অন্তত স্বীকৃতি জুটেছে ভারতে জন্ম নেয়া জয় খান আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া বীর খানের। রাহুল খানের মা আলোচিত নায়িকা না কিবং ধনি না সে কারণে স্বীকৃতির বাইরে রেখে আরো বড় অন্য করছেন কথিত সুপারস্টার।  

চলচ্চিত্র পাড়ার লোকেরা বলেন, মেয়েদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে পারঙ্গম শাকিব। সংসার, স্বামী নারীদের কাছে অনেক বড়। আর শাকিবের মতো স্বামী হলে তো কথাই নেই। যুগযুগ ধরে এ ধরনের বহু ঘটনার নজির আছে। এককালে বাবুরা রক্ষিতা পুষতেন। বারবধূ গমন করতেন। নাটক-সিনেপাড়ায় এর স্টাইলটা আলাদা। তাদের ক্ষেত্রে যেন এটি বড় মাপের অপরাধ নয়। এমন হতেই পারে বলে তাদের জন্য সাফাইমূলক কিছু মারফতি কথা আছে। শাকিব খানকে নিয়ে গণমাধ্যমের আগ্রহকে বাড়াবাড়ি হিসেবে দেখছে তারা। ওনাদের বক্তব্য হচ্ছে, দেশে নানান সমস্যা থাকতে শাকিব খানের কয়েকটা বিয়ে বা সন্তান পয়দা নিয়ে এতো কথা নিরর্থক। শাকিব তো অপু বিশ্বাসকে তালাক দিয়ে বুবলীকে বিয়ে করেছেন। এতে আইন খেলাপ হয়নি।

এছাড়া যারা ঘরে স্ত্রী রেখে নানান জায়গায় পরকীয়া করেন, ক্ষমতা বা অর্থ দিয়ে নারী সম্ভোগ করেন, ধর্ষণ করেন শাকিব তাদের চেয়ে খারাপ নন। দেরিতে হলেও তিনি স্বীকৃতি দেন। সেই বিবেচনায় নায়ক-নায়িকাদের শোয়ার ঘরে উঁকিঝুঁকি দেয়া সাংবাদিকতার নীতিমালায় পড়ে না। আরেকটি গোত্র যত দোষ পপি, অপু, বুবলি, রাত্রিদের ওপর চাপাতে চান। বলতে চান: এখানে খানের চেয়ে খানমদেরও দায় কমনয়। তারা এই টার্গেট প্রাক্টিস এখন এসে করছেন কেন? যখন রমণ করেছিলেন, তখন কেন শেষ দৃশ্য নিয়ে ভাবেননি? তারা ক্যারিয়ার গড়তে চান, খান সাহেবের নায়িকা বা পার্টনার হতে চান। দ্রুত বাচ্চা ধারন করে আটকাতে চান খান সাহেবকে। 
টাকা খরচ করে হলেও কখনো কখনো ‘স্ক্যান্ডাল আর গসিপ' ছড়ান ফিল্মের হিরো-হিরোইনরা। তা হলিউডসহ বিশ্বজোড়া। এতে তাদের মার্কেট জমে। প্রচার বাড়ে, প্রসার আসে। শাকিব খান এ বিষয়ে খুব ভাগ্যবান।এ জন্য তার খরচ করতে হয় না। স্যোশাল মিডিয়া উৎরে মূলধারার গণমাধ্যমেও অটো কাভারেজ পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। দেশের ডলার সঙ্কট, মূল্যস্ফীতিসহ অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বিএনপির আন্দোলন, মরিয়ম মান্নানের মায়ের আত্মগোপন, পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে বহু মানুষের মৃত্যু, এমন কি রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো খবর চাপা দিয়ে গরম শিরোনামে খান ও খানমগণ। বিভিন্ন সেক্টরের অস্থিরতা, অনিশ্চিত আগামী, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, হানাহানি, লুটেরাদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব, আমলাদের বাধাহীন খবরদারিত্ব, ব্যাঙ্ক বীমার ধ্বসের খবর তলিয়ে দিতে পেরেছেন তিনি। 
সামনের দিনগুলোতেও তার মার্কেট রমরমাই যাবে? নাকি বিপরীত কিছু ঘটবে? এর মাঝে সিনেমাপাড়ার কিছু বিশিষ্টজন বলছেন- বহু হয়েছে, আর না। তারা পারিবারিক গণ্ডিতেও মুখ দেখাতে পারছেন না। ক’দিন ধরে এফডিসিতে পা রাখছেন না। সহকর্মীদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন না। তারা বিনোদন সাংবাদিকদের অনুরোধ করতে শুরু করেছেন, এ নিয়ে আর লেখালেখিতে না যেতে। বাকিটা এখন দেখার অপেক্ষা।


লেখক: বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশক

মন্তব্য করুন: