• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নবী-রাসুলদের শিক্ষা কী?

প্রকাশিত: ১৭:১৬, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নবী-রাসুলদের শিক্ষা কী?

এআই জেনারেটেড ছবি

নেশা মানুষের বিবেক, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক থেকে দূরে থাকা এবং সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। মানুষের জীবন, বিবেক ও নৈতিকতা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা সুস্পষ্ট। মাদকাসক্তি ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ, সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই নেশা থেকে দূরে থাকা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার শিক্ষা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মাদক সম্পর্কে কোরআনের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনের সুরা আল-মায়িদার ৯০ নম্বর আয়াতে মদ ও নেশাজাতীয় বস্তু থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ধারক তীর শয়তানের অপবিত্র কাজ। তাই এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে, যাতে মানুষ সফল হতে পারে। পরের আয়াতে বলা হয়েছে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে শয়তান মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে দূরে রাখতে চায়। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, নেশা শুধু ব্যক্তির ক্ষতি করে না; মানুষের সম্পর্ক ও সামাজিক শান্তিও নষ্ট করতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা
মাদক ও নেশার বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস উল্লেখ করা যায়। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম।’ হাদিসটি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে মাদকাসক্তি থেকে বিরত থাকা এবং নেশার বিস্তার রোধে সচেতনতা তৈরি করা মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

নবী-রাসুলদের শিক্ষা থেকে কী বার্তা পাওয়া যায়?
নবী-রাসুলগণ মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য, নৈতিক জীবন, আত্মসংযম ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেছেন। তবে নির্দিষ্টভাবে কোন নবী মাদকের বিরুদ্ধে আলাদা কোনো আন্দোলন করেছেন, এমন দাবি করতে হলে নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় দলিল প্রয়োজন। তাই তাদের সামগ্রিক নৈতিক শিক্ষাকে মাদকবিরোধী সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে, কিন্তু দলিল ছাড়া কোনো ঘটনা তাদের নামে প্রচার করা উচিত নয়।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে করণীয়

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পরিবারে নৈতিক শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ এবং আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ঘৃণা না করে তার চিকিৎসা ও সুস্থ জীবনে ফেরার সুযোগ করে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষ নিজের জীবন ও বিবেককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে না। কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে নেশামুক্ত জীবন গঠন এবং সমাজকে মাদকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করাই হতে পারে এই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ।

বিভি/এমআর

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত