জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, চরম ভোগান্তিতে মোটরসাইকেল চালকরা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তেল পাওয়ার আশায় অনেক চালককে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরতে দেখা যায়। কয়েকটি ফিলিং স্টেশন তেল সংকটের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
যেসব স্টেশনে তেল সরবরাহ রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৩২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গত সাত দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।
সংগঠনটির সভাপতি রাশিদুল হাসান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-সংক্রান্ত অস্থিরতার প্রভাবের কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। এ কারণে পাম্পগুলোও গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ দিতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে, হঠাৎ করে তেল সংকট দেখা দেওয়ায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারও বর্তমানে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে অনিশ্চয়তা, বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদন নীতিতে পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক চাহিদা ওঠানামার কারণেও বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব বাড়বে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: