• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

পাম্পে দাঁড়িয়ে থেকে তেল সরবরাহে বাধ্য করলেন এমপি

প্রকাশিত: ১৩:০৬, ২৭ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পাম্পে দাঁড়িয়ে থেকে তেল সরবরাহে বাধ্য করলেন এমপি

ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানে জ্বালানি তেলের সংকটে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ। ভোগান্তিতে পড়েছেন বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও।  

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে সংকট নিরসনে পাম্প পরিদর্শন করে পাহাড়িকা পেট্রল পাম্পে দাঁড়িয়ে থেকে মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহে বাধ্য করেছেন ওই আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে সারা দেশেই জ্বালানি সংকট চলছে। এর প্রভাব পড়েছে বান্দরবানেও। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অকটেন সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছেন না অনেকে। এতে জরুরি কাজ ও দৈনন্দিন যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খবর পেয়ে বান্দরবানের স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু তাৎক্ষণিক জেলা শহরের পেট্রল পাম্পগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় ভুক্তভোগীদের অভিযোগে পাহাড়িকা পেট্রল পাম্পে দাঁড়িয়ে থেকে মোটরসাইকেলসহ যানবাহনে তেল সরবরাহে বাধ্য করেন। 

এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদ, জাহাঙ্গীর আলম, জেলা যুবদলের সভাপতি জহির উদ্দিন মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আরিফ চৌধুরী, শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে টানা ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে বান্দরবান জেলায়। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার বাইকার পর্যটকের আগমন ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন মৌসুমে এই অতিরিক্ত চাপের কারণে জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে বান্দরবান।

স্থানীয় ইঞ্জিন বোটচালক সুইচা প্রু মারমা গণমাধ্যমকে বলেন, পর্যটকদের আগমন আমাদের জন্য আশীর্বাদ হলেও বর্তমান জ্বালানি সংকটে বাইকার পর্যটকরা এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেল ও সাঙ্গু নদী পথে ইঞ্জিনচালিত বোট। কিন্তু জ্বালানি না থাকায় আমরা কাজ করতে পারছি না। 

থানচি পর্যটক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, অকটেন সংকটের কারণে ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্পট তিন্দু, রাজা পাথর ও রেমাক্রি ফলস এ যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে ভরা মৌসুমেও পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের আয় কমে গেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী গণমাধ্যমকে বলেন, তেলের সাময়িক সংকট রয়েছে। অতিরিক্ত মজুত না রেখে নিয়মমাফিক অল্প অল্প করে তেল নিয়ে প্রয়োজন মেটাতে হবে। পেট্রল পাম্পে তেল মজুত রেখে যানবাহনে তেল সরবরাহ না করার কোনো সুযোগ নেই। অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে।

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি গণমাধ্যমকে জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জেলায় অতিরিক্ত চাহিদা না থাকলেও সম্প্রতি বাইকার পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল পাম্পে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, সারা দেশে আংশিক অকটেন সংকট বিবেচনায় নিয়ে বাইকে করে পর্যটকদের আগমন নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: