• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া সেই তরুণীর মৃত্যু, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৫২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া সেই তরুণীর মৃত্যু, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

ছবি: ফারহানা ইয়াসমিন তমা (ইনসেট)

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল থেকে ফেলে যাওয়া এক তরুণী চার দিন পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ওই তরুণী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি নির্জন স্থানে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের নথিতে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত তরুণীর নাম ফারহানা ইয়াসমিন তমা (২০)। তিনি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের তোজাম্মেল হকের মেয়ে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।

তমার ভাই মো. তামিম জানান, একই এলাকার বখতার আলী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তমার বিয়ে হয়েছিল। চার মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তমার মৃত্যুর পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বখতার আলীকে আটক করেছে।

তামিমের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাসেল নামের এক যুবক গোলাপনগর গ্রাম থেকে তমাকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যান। পরে রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বকশীপাড়া মোড় এলাকায় অচেতন অবস্থায় তাকে ফেলে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তামিম আরও দাবি করেন, তমাকে নিয়ে যাওয়া রাসেল তার সাবেক স্বামী বখতার আলীর বন্ধু। ঘটনার দিন বিকেলে রাসেল তমার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেছিলেন। ঘটনার পর থেকে রাসেল পলাতক রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের পক্ষ থেকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এখনো তা নিশ্চিত করতে পারেনি। তামিম জানান, হাসপাতালে তমার মাথায় আঘাতের চিকিৎসা চলছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের পরীক্ষা করার অনুরোধ করা হলেও চিকিৎসকেরা তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তরের কথা জানিয়েছিলেন। তবে তার আগেই তমার মৃত্যু হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, বিষয়টি তিনি এখনো জানেন না। খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না, তা জানতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, তমার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশ এখনো বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তমার সাবেক স্বামী বখতার আলীকে আটক করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগে মামলা করা হবে, তা আইন অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: